আজ ২২ জুন, নিশাতের জন্মদিন ...

আজ ২২ জুন। নিশাতের জন্মদিন।
 
আজকের এই দিনে, পৃথিবী তার আলো ছড়িয়ে দিয়েছিল আমাদের সংসারে—অথচ সে আলোটা ঠিক সূর্যের মতো ছিল না। এটা ছিল একটু নরম, একটু নিঃশব্দ, একটু রূপালি আলো—যেটা কেবল তারা (star) দেয়। নিশাত, আমার ছোট বোন নয় শুধু, বরং জীবনের সেই পাতাটা, যেটা খুললে আমি ফিরে পাই ছেলেবেলার ঘ্রাণ, মা’র কণ্ঠস্বর, আর একটা সময়, যেখানে ঘড়ির কাঁটা কেবল খেলার জন্যই চলতো।
আমরা বয়সে কাছাকাছি, অথচ মাঝেমাঝে মনে হয়, সে যেন আমার আগের জন্মের ছায়া—যে আমাকে বুঝে ফেলে, এমনকি আমি চুপ করে থাকলেও। জীবনের অনেক কঠিন সময়েও, ওর একটুখানি হাসি যেন বাতাসে রেখে যাওয়া কাগজের নৌকার মতো—ডুবে যেতে যেতে আবার ভেসে ওঠে।
 
নিশাত কখনো খুব উচ্চকণ্ঠে কিছু চায়নি, কিন্তু তার উপস্থিতি সবসময় গভীর। ওর সঙ্গে কথা বললে মনে হয়—শব্দ নয়, সময় কথা বলছে। কখনো মুঠোফোনে, কখনো স্রেফ একটা ছবির ক্যাপশনে, সে তার নিজের মতো করে পাশে থেকেছে—না বলে, না জোরে, শুধু নিঃশব্দে।
 
আজ নিশাতের জন্মদিন। আমি চাই না তাকে “হ্যাপি বার্থডে” বলে এই দিনটাকে সেরে ফেলি। বরং আমি চাই, সে জানুক—তার জন্মদিন আমার কাছে একটা প্রার্থনার মতো। যে প্রার্থনায় আমি প্রতিবার বলি—ও যেন ভালো থাকে, নিজের মতো করে, নরম আলোয় ভেজা ছায়ার মতো।
 
শুভ জন্মদিন, নিশাত
তুই আলোর মতো হোস না—
তুই যেন একটানা জ্বলতে থাকা নিভে না যাওয়া দীপশিখা হোস।
 
 
 

Related Articles

এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে

এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!