সোস্যাল মিডিয়াতে জোহরান মামদানির ভিডিয়োগুলো দেখছিলাম। পত্রিকায় কিংবা টিভির রিপোর্টে আগেই পড়েছি, প্রচারনার ক্ষেত্রে মামদানি দারুণ পরিবর্তন এনেছিলেন। ভিডিয়োগুলো দেখে তাই মনে হয়েছে।
প্রসঙ্গান্তরে আরেক কথা বলি। আমাদের দেশে যারা ইউটিউবার, রিলস বানায়, টিকটক করে - তাদের ফলোয়ারের সংখ্যা অনেক থাকে। কারো কারো মিলিয়ন। রাজনীতিতে নামুক বা না নামুক, সাধারণ মানুষ তাদেরকে আগে থেকেই চিনে, জানে। যে কারণে একজন হিরো আলম, কিংবা প্রিন্স মামুন কিংবা আরো অনেককে মানুষ যেভাবে চিনে, প্রথাগত মিডিয়ার অনেক মানুষকেও সেভাবে চিনে না। তারা রাজনীতি করে না, তাই এই পাওয়ারটাকে কাজে লাগাতে পারে না।
আমাদের দেশ এখন কয়েকজন ইউটিউবারের কথায় চলে। ঐ যে হিরো আলমের নাম বললাম, সে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু অতোটা কোঅর্ডিনাটেড না হওয়াতে নির্বাচিত হয়নি, যদিও বগুড়ার একটা আসনে মাত্র ৮০০ ভোটের ব্যবধানে সম্ভবত হেরেছিল। কিন্তু কয়েকজন ইউটিউবারের এই কোঅর্ডিনেশন আছে। তারা জানে জনগণ কোনদিকে ধাবিত হবে, জনগণের পালস কী? তারা সেভাবে জনগণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। এতে তাদের নিজেদের মনে একটা আত্মগরিমা দেখা দেয় - "আমি কিং না হলেও, কিংমেকার!"
গত দুবছর ধরে বইমেলায় বেস্ট সেলার হয়ে যাচ্ছে এলমা বেহরোজের বইগুলো - পদ্মজা, আমি পদ্মজা। দূর দূরান্তের মফস্বল শহর থেকে মেয়েরা এসেছে এই বই কিনতে, যারা বই পড়েও না! ফেসবুকে অনেক আগেই লেখা হয়ে গেলেও দারুণ বিক্রি হয়েছে। কেউ কেউ বলে, এলমা একটা শ্রেণীকে টার্গেট করে লিখেছে। তারা কিনেছে। কিন্তু সে কীভাবে সেই টার্গেট শ্রেণীর কাছে পৌঁছাইছে? উত্তর - টিকটক, রিলস, ফেসবুক।
মামদানি এদের সবার থেকে ভিন্ন। তিনি হিরো আলম থেকে ভিন্ন,তিনি প্রভাবশালী ইউটিউবারদের থেকে ভিন্ন,তিনি এলমার থেকে ভিন্ন। আর তাই একই পাওয়ার ব্যবহার করে তিনি নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
আমি প্রায়শই বলি, যতোই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসুক, যতোই পৃথিবী প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হোক, একসময় পৃথিবীর সময়কে দুইভাগে ভাগ করা হবে - ফেসবুক পূর্ববর্তী এবং ফেসবুক পরবর্তী। আমাদের দেশের এই যে ৫ আগষ্ট, তারও ইমপ্লিমেন্টেশনের পিছনে ফেসবুকেরই সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা, কারণ ফেসবুকের কারণেই জনমানুষ এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছিল।
আমার প্রিয় বন্ধু শামীম আহমেদ দারুণ দারুণ লেখা লিখেন ফেসবুকে। আমি প্রায়শ চেষ্টা করি পড়ার। কিন্তু এই লেখার বক্তব্যগুলোই যদি রিলস কিংবা ভিডিয়োর মাধ্যমে পেতাম, আরো জনগণের কাছে কথাগুলো পৌঁছাতো।
যার এইসব সামাজিক মাধ্যম ভালোভাবে ব্যবহারের সামর্থ্য আছে, মেধা আছে - তাদের পিছিয়ে থাকার কারণ নেই। কিন্তু এই ক্ষমতাকে ব্যবহার করা উচিত পজিটিভ ওয়েতে, মামদানি পদ্ধতিতে। যদি এই ক্ষমতা আমাদের দেশের প্রভাবশালী ইউটিউবারদের মতো ব্যবহার করা হয়, তাহলে তারা আরো প্রভাবশালী হতে পারবে, কিন্তু দেশ আর প্রভাবশালী হতে পারবে না।
আমাদের এখন দেশকে প্রভাবশালী করতে হবে।