এক ছিলো ভূখণ্ড — নাম সুরবিলাসপুর।
নাম শুনলেই মনে হয়, যেন কোনো শঙ্খনিনির শাসিত শান্ত পল্লী, যেখানে সকালের শুরু কুসুমঘ্রাণে আর রাতের ঘুম আসে সূর্যাস্তের প্রতিশ্রুতিতে।
কিন্তু আসলে, সেই দেশে ছিলো এক বিশেষ ‘দিশা’।
মানচিত্রে দেখা যায় না — শুধু সিলিং ফ্যানে দোল খায়।
সেই দিশার অনুসারীরাই ছিলো 'মৃদুমন্দ সংঘ' — তারা বিশ্বাস করতো, পৃথিবীর সব উত্তরণ 'দক্ষিণ দিকেই'।
তাদের মুখপাত্র বলতেন, “আমরা আলো, আমরা ছায়া। আমরা যখন নীরব থাকি, তখনই রাষ্ট্র কথা বলে।”
প্রথমদিকে লোকজন অবাক হয়নি।
কারণ তখন চালের গন্ধে শাসন নরম ছিলো, আর সংঘের প্রাচীনতম নেত্রী কবিতা লিখতেন রেশনের উপর।
কিন্তু যতই কবিতার শব্দ কামানের আওয়াজে মিশে যেতে লাগলো, মানুষ বুঝলো — “পৃষ্ঠাগুলোতে সংবিধান লেখা, কিন্তু আচরণটা কারা তৈরি করে?”
সংঘের উত্তর ছিলো, “আমরা। এখন থেকে নীরবতা মানেই সম্মতি, আর প্রশ্ন করা মানে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”
সেই সময়...
নতুন প্রজন্ম, যাদের কপালে পোস্টার নয়, বরং অ্যাপ-নোটিফিকেশনের দাগ, তারা কাঁপিয়ে দিলো অজানা গলির মঞ্চ।
কেউ একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে একটি কাগজ সাঁটিয়ে দিলো —
"পেনশন নয়, প্রশ্ন চাই।"
তাতে মঞ্চ কেঁপে উঠলো।
কিছু অশ্রুবিন্দু থেকে গেলো, যারা বললো, “আমরা যে কালের ক্যানভাসে জীবন দিয়েছি?”
উত্তরে একটি কণ্ঠ ভেসে এলো — “হ্যাঁ, কিন্তু রংটা তো তোমরাই চুরি করেছিলে।”
তারপর একদিন...
নেমে এলো এক আলোছায়ার দল — নাম "ধুলিস্নান মন্ত্রিপরিষদ"।
তাদের নেতা ছিলেন একজন নীরব সমাধানপ্রেমী, যিনি বিশ্বাস করতেন, “বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা যায় — যদি মশারির নিচে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়।”
প্রথম ঘোষণাটি ছিলো সরল, অথচ সাংকেতিক:
“আগের দলটি ইতিহাসে স্থান পাবে — কিন্তু মানচিত্রে নয়।”
এরপর সব Wi-Fi সংযোগে একটি নোটিফিকেশন এল:
“দলের নাম উচ্চারণ করলে *ডেটা চার্জ দ্বিগুণ হবে।”
তবুও শান্তি এলো না।
তারা ঘোষণা দিলো:
“বিশ্বাস যারা করেছিলো, তারা এখন 'স্মরণ কেন্দ্র' পাবে — যেখানে চুপচাপ বসে নতুন সংবিধান শিখতে হবে।”
এদিকে...
একটি ক্ষীনদর্শী দল, নাম "অবস্মৃতি সংঘ", ভাবলো —
“পুরনো যায়, নতুন আসে — এবার আমরাই আলো।”
কিন্তু তাদের সম্মেলনে আসা ১২ জন সদস্যের মাঝে ৭ জন ছিলো আগের দিনের টাইম ট্রাভেলার। তাদের একজন বললেন,
“আজকের প্রশ্নগুলো টুইটারে উড়ে, আপনারা এখনো চায়ের কাপে বিপ্লব খুঁজছেন!”
সবার ঠোঁটে নিস্তব্ধতা।
তারপর...
আলোছায়ার দালান থেকে নেমে এলো এক ভিন্ন কণ্ঠ:
“নতুন দল নয়, নতুন সহ্যশক্তি চাই।”
তারা বানাল এক অদ্ভুত সমিতি — "ধ্যানমগ্ন সংঘ।"
তাদের প্রতীক?
“একটা হাঁসফাঁস করা বাঘ — যেটা শিকার করে না, শুধু তাকায়।”
তাদের কথা:
“আমরা রাজনীতি করবো না, শুধু প্রশাসনের হৃদস্পন্দন শুনবো।”
লোকজন বললো,
“চলো, অন্তত এবার কেউ কামড়াবে না — শুধু হাঁপাবে।”
সব অফিসের দেয়ালে এখন একটা বাক্য —
“আপনি যা ভাবেন, তা আপনি বলেন না — আর আপনি যা বলেন, তা আমরা আগে থেকেই জানি।”
মানুষ চুপচাপ হাঁটে।
বাচ্চারা স্কুলে যায়।
আর সন্ধ্যায় সবাই টিভি দেখে —
একটা অনুষ্ঠান, নাম "ছায়ার সংবিধান"।
পর্বের নাম:
“নেতা না নাগরিক — কাকে ঘুমাতে দেওয়া হবে আগে?”
একটি রেডিও ফিসফিস করে বলে,
“সব কিছু বদলে গেছে — শুধু পায়ের আওয়াজ আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশ এখনো একই রকম।”
(এই এলোমেলো অবাস্তব অপরিকল্পিত গল্পের সাথে কোনো কিছুর মিল নেই)