পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ কী?
আমার কাছে উত্তরটা সহজ—থ্রিলার লেখা।
কারণ থ্রিলার মানে শুধু গল্প না। থ্রিলার মানে সময়কে ফাঁদে ফেলা। পাঠকের শ্বাসকে নিজের ইচ্ছামতো ধীর-দ্রুত করা। এমন একটা বাক্য লেখা, যার পরে আরেকটা বাক্য না পড়লে ঘুম আসবে না।
তিন বছর আগে এক অদ্ভুত মুহূর্তে আমি একটা কথা দিয়েছিলাম। বিবলিওফাইলের সাব্বিরকে। বলেছিলাম—আমার প্রথম থ্রিলারটা ওদেরই দেব। তখন মনে হয়েছিল, কী আর এমন? গল্প তো লিখি। পুরাণ লিখেছি, ভ্রমণ লিখেছি, ইতিহাস লিখেছি। থ্রিলারও লিখব।
কিন্তু থ্রিলার অন্য জিনিস।
এখানে ভুল করা যায় না। এখানে একটা আলগা বাক্য মানেই ফাঁস। একটা দুর্বল চরিত্র মানেই তদন্ত ভেঙে পড়া। একটা অযৌক্তিক মোড় মানেই পাঠকের অবিশ্বাস—আর অবিশ্বাস ঢুকে গেলে থ্রিলার মৃত।
তিন বছর কেটে গেছে।
এই তিন বছরে কতবার শুরু করেছি, কতবার মুছে ফেলেছি। রাত দুইটা পঞ্চান্ন মিনিটে উঠে নোট লিখেছি। ভোরে বুঝেছি—এটা কাজ করছে না। চরিত্রদের জেরা করেছি। খুনের কারণ পাল্টেছি। খুনিকে বাঁচিয়েছি। নির্দোষকে সন্দেহভাজন বানিয়েছি। তারপর আবার সব উল্টে দিয়েছি।
এরই মধ্যে প্রচ্ছদ তৈরি হয়ে গেছে। Ashikur Rahman Bishal এমন এক প্রচ্ছদ বানিয়েছে, যেটা দেখলেই মনে হয়—এই বইয়ের ভেতরে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। অন্ধকার আছে। রক্ত আছে। আর আছে এমন এক নীরবতা, যার নিচে কিছু চাপা পড়ে আছে।
প্রচ্ছদ তৈরি। কথা দেওয়া আছে। সময় শেষ হয়ে আসছে।
এখন প্রশ্ন একটাই—
আপনারা কি এই থ্রিলারটা গ্রহণ করবেন?
কারণ এই বই শুধু একটা বই না। এটা একটা পরীক্ষা। আমি কি পারি—না কি পারি না?
যদি গ্রহণ করেন, আমি জানব—অন্ধকারে নামা সার্থক ছিল। আবারও নামব। আরও গভীরে। আরও বিপজ্জনক জায়গায়।
আর যদি না করেন—
তাহলে বুঝব, খুনের ঘরে ঢুকেছিলাম, কিন্তু প্রমাণ লুকাতে পারিনি।
রায় এখন আপনাদের হাতে। 