আমি ভালোবাসি।
তবে সেই ভালোবাসায় নেই কোনো ঘোষণা, নেই কোনো ফটো ট্যাগ, নেই কোনো দিন নির্দিষ্ট পোস্ট।
আমি ভালোবাসি এমন একজনকে, যার পাশে দাঁড়িয়ে একটা ছবিও দিতে পারি না – কারণ ছবিতে থাকলেও সে নেই।
সে নেই আমার নামের পাশে, নেই আমার ‘relationship status’-এ, নেই আমার কোনো উৎসবের আয়োজনে।
তবুও আমি ভালোবাসি।
১৪ ফেব্রুয়ারি আসে, ফুল বিক্রি হয় রাস্তার মোড়ে, চকলেটের বাক্স হাতে হাতে ঘোরে, তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে আলতো করে ভালোবাসা বলে দেয়—
আর আমি?
আমি সেই ভালোবাসা লুকিয়ে রাখি বুকের ডান পাশে, যেটা বাঁ পাশে নয় বলেই কেবল কেউ শুনতে পায় না।
পহেলা ফাল্গুন আসে, চারদিকে রঙ, হাসি, গানের আবহ—
আমি তখন মানুষের ভিড়ে একাকী হয়ে থাকি।
তার চোখে চোখ রেখে “তোমাকে ভালোবাসি” বলার বদলে
আমি হাজারো মানুষের ভেতর তার পাশ কাটিয়ে হেঁটে যাই—
কেউ বুঝে না, সেদিন আমার পৃথিবীও ঠিক পাশ দিয়ে হেঁটে যায়।
পহেলা বৈশাখেও তার হাত ধরে রমনায় ঘুরি না,
কর্ণফুলী নদীর ধারে বসেও বলি না, “তুমি এলে বলে দিনটা পূর্ণ লাগছে।”
বলতে পারি না— কারণ, সেই অধিকার আমার নেই।
হয়তো সে আমায় ভালোবাসে না,
হয়তো ভালোবাসেও— কিন্তু তারও হয়তো সেই অধিকার নেই।
আমি গভীর আড্ডায় হঠাৎ উঠে যেতে পারি না বলে,
“আমার ভালোবাসার মানুষ ফোন দিয়েছে, যাবো”—
পাছে কেউ জেনে যায়, আমি কাউকে ভালোবাসি।
ঝগড়া হলে কাউকে বলতেও পারি না, “আজ খুব কষ্টে আছি, ওর সাথে কথা হয়নি”—
কারণ আমি জানি, আমার ভালোবাসা এই শহরের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি আলোকচিত্র, প্রতিটি মানুষের চোখ থেকে লুকানো।
ভালোবাসা যখন লুকিয়ে রাখতে হয়,
তখন তা হয়ে যায় একান্ত নিজের, অথচ এক নিঃসঙ্গ শুদ্ধতা।
যেন কোনো পরিত্যক্ত মন্দিরে সযত্নে রাখা একটা মাটির প্রদীপ—
জ্বলছে, নিঃশব্দে… কাউকে আলো না দিয়েও, নিজেই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
আর হয়তোবা…
হয়তো আমার ভালোবাসার কোনো মানুষই নেই।
হয়তো আমি শুধু ভালোবাসার অভ্যাস ধরে রেখেছি,
কারণ কেউ আসেনি আমার দিকে বাড়িয়ে দিতে ভালোবাসার ছায়া।
তবুও, এই নিঃশব্দ প্রেমে আমি থাকি—
কারণ ভালোবাসা মানেই তো দাবি নয়।
ভালোবাসা মানে, কারও নাম না বলেও তার নামে কবিতা লেখা।
ভালোবাসা মানে,
পৃথিবীর সমস্ত উৎসব থেকে সরে গিয়ে নিরালায় দাঁড়িয়ে বলা—
“তুমি ছিলে, তাই আমি আজও আছি।”
কেউ জানুক আর না-ই জানুক, আমি ভালোবাসি।
