আমি প্রেম করব

আমি প্রেম করব।
 
আমার বাড়ি গ্রামে—কিন্তু আমি গ্রামের ছেলে নই। এই কথাটা বললেই যেন ভেতরে একটা অস্বস্তি নড়ে ওঠে। গ্রামে জন্ম ছিল না, গ্রাম আমাকে বড়ও করেনি। আমার শৈশবের উঠোনে ধুলো ছিল না, বিকেলের মাঠে গড়ানো রোদ ছিল না। ঘুড়ি কাটাকাটি খেলিনি, ডাংগুলি বা দাঁড়িয়াবান্ধা আমার শরীরে কখনো ঢোকেনি। গোল্লাছুট, বরফ পানি, সাত চারা—নামগুলো চেনা, কিন্তু স্মৃতিগুলো নয়। মার্বেল কীভাবে খেলতে হয় জানি না। দৌড়ে গিয়ে নদী বা পুকুরে ঝাঁপ দেওয়ার সাহস পাইনি। গাছের মগডালে উঠিনি, আমবাগান থেকে আম চুরি করিনি। বৃষ্টিতে ভিজে অকারণে হেসে ওঠার সেই উন্মাদ আনন্দটাও কখনো হয়নি।
 
এই সব ‘হয়নি’-ই আমাকে পোড়ায়। যেন জীবন আমাকে দিয়ে অর্ধেক একটা শৈশব লিখে থেমে গেছে। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে নতুন করে জন্ম নিতে। একান্নবর্তী পরিবারের ভেতরে, মানুষের গলার আওয়াজ আর হাঁড়ির ঢাকনার শব্দে বড় হতে। জীবন আর ক্যারিয়ারকে শত্রু বানিয়ে যুদ্ধ করতে না হয়। মাঠের পাশে বসে বসে সময় কাটিয়ে দিতে। চাষের জমির দিকে তাকিয়ে দিন গোনা। জীবনটা হয়তো ছোট হতো, কিন্তু ভারী হতো না।
আর প্রেম করতাম।
 
এই মধ্য বয়সে এসে হঠাৎ করে বুঝি—আমার ভেতরে একটা অসমাপ্ত প্রেম পড়ে আছে। যেন কোনো এক সন্ধ্যায় তাকে শুরু করার কথা ছিল, কিন্তু আমি পৌঁছাতে পারিনি। এখন আবার মনে হচ্ছে, সেই প্রেমটাকেই খুঁজে ফিরছি। আগের সেই যৌবনের মতোই—বেপরোয়া, হিসাবহীন। কাউকে পাগলের মতো ভালোবাসতে চাই। এমন ভালোবাসা, যেখানে ভবিষ্যৎ একটা চাপ নয়, বরং দূরের কোনো অস্পষ্ট আলো। কারো হাত ধরে চুপচাপ বসে থাকতে চাই। কথা কম, উপস্থিতি বেশি। যেখানে নীরবতাও দু’জনের হয়ে কথা বলে।
 
আমি জানি, এই বয়সে মানুষ প্রেমকে ছোট করে দেখে। নিরাপত্তা চায়, স্থিরতা চায়। কিন্তু আমার ভেতরের সেই অনখেলা মাঠ এখনো ডাকছে। সেখানে কোনো ঘুড়ি ওড়েনি, কোনো প্রেমও হয়নি।
আমি সেই মাঠে প্রেম করতে চাই।
 
দেরিতে হলেও, গভীরভাবে।

Related Articles

এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে

এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!