এই প্রশ্নটাই হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য

আপনি কোন জিনিসটা বেশি চান?
 
জীবনে উন্নতি করার জন্য জীবনটাকেই হারিয়ে ফেলা? নাকি, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই এই জীবনটাকে ভালোবেসে উপভোগ করা?
আজ হঠাৎ অন্তর্জালে চোখে পড়লো পুরনো এক বন্ধুর খবর। নিউজে তার ছবি, পরিচিত হাসি, পরিচিত চোখ – তবু যেন অচেনা। জানলাম, সে এখন প্রফেশনাল জগতের এক বিশাল নাম। সাফল্য যেন তাকে আপন করে নিয়েছে।
 
কিন্তু সেই ছবিটার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন জেগে উঠলো—সে কি এখনো সেদিনকার সেই মানুষ? স্কুল জীবনে যার চোখে ছিলো আগুনের মতো স্বপ্ন? যার কাঁধে ছিলো হিমালয়ের মতো লক্ষ্য?
সে সফল— নিঃসন্দেহে। তবু মনে হলো, সে কি জীবন উপভোগ করছে?
 
রাত্রির শেষভাগে ফুটে ওঠা একটা নীল জোনাকি, এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ের মাঝে পাওয়া শান্তি, ভোরবেলার কুয়াশার ফাঁকে ফুটে ওঠা রোদ্দুরের রঙ, এগুলো কি সে দেখতে পায়?
আমাকেও তো এমন প্রশ্ন অনেকেই করেছে। "তুমি কেন ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটলে না?" "তুমি কেন বাইরে যাওনি?" "নিউরোসার্জারির মতো ব্রাইট ফিল্ড ছেড়ে পাবলিক হেলথে চলে গেলে কেন?" "এতটা পড়াশোনা করেও একদিন জেনারেল প্র্যাকটিস করোনি কেন?"
 
আমি চুপ করে থাকি। কারণ এই প্রশ্নগুলোর জবাব কেবল প্রশ্নেই রয়ে যায়। আমি জানি, আমি চেয়েছিলাম জীবনটাকে ছুঁয়ে দেখতে। জীবনের ত্বকে আঙুল বুলিয়ে অনুভব করতে তার উষ্ণতা। একেকটা দিনের ভেতর ঢুকে পড়তে চেয়েছিলাম— যেখানে সময় থেমে থাকে না, কিন্তু হৃদয়টা থেমে যেতে পারে এক কাপ চায়ের পাশে বসে।
 
আমি হয়তো কোনোদিন হোয়াইট হাউসের গেস্ট লিস্টে থাকবো না, আমার নাম গুগলে সার্চ দিলে দশটা একাডেমিক পেপার আসবে না,
তবু আমার একটা জীবন আছে—যেটা আমি প্রতিদিন ভালোবেসে কাটাই।
 
এই একটা মাত্র জীবন— এটা কি স্রেফ সফল হওয়ার যন্ত্রচালিত রাস্তা হবে? নাকি এটি হবে এমন এক ছায়াঘেরা পথ, যেখানে সময় নিয়ে হাঁটা যায়, পাতার শব্দ শোনা যায়, আর মাঝেমাঝে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করা যায়—
“আমি আসলেই বেঁচে আছি তো?”
 
এই প্রশ্নটাই হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

Related Articles

এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে

এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!