এবারের বইমেলা আমার জন্য একটু অন্যরকম

এবারের বইমেলা আমার জন্য একটু অন্যরকম। শুধু নতুন বই আসছে বলে না—মনে হচ্ছে একটা অধ্যায় বদলাচ্ছে।
 
📍প্রথমেই আসছে আমার প্রথম মৌলিক থ্রিলার— কৃষ্ণ নদীর শহরে, বিবলিওফাইল থেকে। এতদিন ধরে মিথ, ইতিহাস, প্রাচীন সভ্যতা নিয়ে লিখেছি। কিন্তু এই বইটা একেবারে অন্য জায়গা থেকে লেখা। এখানে নদী আছে, শহর আছে, আর আছে মানুষের অন্ধকার। বইটা লিখতে গিয়ে আমি নিজেই বদলেছি। অনেক রাত জেগেছি, অনেকবার নিজের ভেতরের ভয়গুলোর মুখোমুখি হয়েছি।
 
📍একই প্রকাশনা থেকে বেরোচ্ছে ‘মেডিকেল থ্রিলার’ সংকলন, সেখানে আছে আমার একটি মেডিকেল থ্রিলার গল্প— জিরো পেশেন্ট প্রটোকল। এই গল্পটা লিখতে গিয়ে পেশার ভেতরের অদৃশ্য চাপ, নৈতিক সংকট—এসব বারবার সামনে এসেছে। হয়তো গল্প, কিন্তু তার ভিতরে বাস্তবের গন্ধ আছে।
 
📍এছাড়াও দুটি বইয়ের মুখবন্ধ লিখেছি এবার। একটা আজব প্রকাশ থেকে, আরেকটা ঘাসফুল থেকে। মুখবন্ধ লেখা আসলে বড় দায়িত্বের কাজ। অন্য একজন লেখকের জগতে প্রবেশ করে তার কাজের দরজা খুলে দেওয়া। এটা আমার কাছে সম্মানেরও।
 
২০২৬ নিয়ে আমার মাথার ভেতর অনেক ভাবনা ঘুরছে।
 
⭕একটা বড় সিদ্ধান্তও আছে—চাকরি ছেড়ে দেওয়ার। এটা হঠাৎ আবেগ না। বেশ কিছুদিন ধরেই মনে হচ্ছে আনন্দটা হারিয়ে গেছে। কাজ করছি, কিন্তু ভেতরে তৃপ্তি নেই। বরং মাঝে মাঝে মনে হয়, যে প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করছি, তার অদৃশ্য দিকগুলো আমাকে ভেতর থেকে অস্বস্তিতে ফেলে। কখনো কখনো খুব ইচ্ছে করে—সব লিখে ফেলি। আলোয় যেগুলো ঝলমলে দেখায়, সেগুলোর ছায়াগুলোও তো আছে।
চাকরি ছাড়লে কী করব, তার পরিকল্পনা আছে। সেটা এখন বলছি না। তবে লেখালেখির পরিকল্পনা পরিষ্কার।
 
২০২৬ মেলার পর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমি তিনটা বড় কাজ শেষ করতে চাই—
 
📍প্রথমত, মিশরীয় মিথলজি—আদি থেকে অন্ত–এর পূর্ণাঙ্গ রঙিন সংস্করণ, জাগৃতি প্রকাশণী থেকে। এটা আমার দীর্ঘ কষ্টের কাজ। চাই বইটা হাতে নিলে পাঠক বুঝুক—এটা শুধু গল্প না, একটা সম্পূর্ণ জগৎ।
📍দ্বিতীয়ত, আসহাবে কাহাফ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বই (নাম এখনো ঠিক হয়নি), আজব প্রকাশ থেকে। এই বিষয়টা বহুদিন ধরে আমাকে টানে।
📍তৃতীয়ত, পুরাণের সমান্তরালে–এর দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম বইটা লিখে থামতে পারিনি। মনে হয়েছে আরও অনেক কথা বাকি।
সম্ভব হলে একটা গল্পগ্রন্থও বের করতে চাই। গবেষণার বইয়ের ভিড়ে আমার ছোট গল্পগুলো যেন অপেক্ষা করে আছে।
 
২০২৭-এর একটা খসড়া মাথায় আছে—
 
📍ইনকা মিথলজি—আদি থেকে অন্ত (জাগৃতি প্রকাশণী থেকে),
📍ছোটদের জন্য মিথলজি (নাম ঠিক হয়নি, অন্ত্যমিল বুকস থেকে), আর
📍মহাভারত—আদি থেকে অন্ত (জাগৃতি প্রকাশণী থেকে)।
 
সবই আল্লাহর ইচ্ছা। মাঝে মাঝে ভয় পাই। শরীর বারবার সাড়া দিচ্ছে না। আইসিইউ, এইচডিইউ—এই শব্দগুলো জীবনের অংশ হয়ে গেছে। কখনো মনে হয় সময় খুব বেশি নেই। কিন্তু এই ভয়টার সঙ্গেই আরেকটা তাড়না কাজ করে—লিখে যেতে হবে। যতদিন পারি।
 
⭕আর একটা বড় স্বপ্ন আছে—
 
“মিথলজি ফাউন্ডেশন”।
 
বাংলাদেশের লোককথা, আঞ্চলিক পুরাণ, হারিয়ে যেতে বসা গল্পগুলো সংগ্রহ করা। গবেষণা করা। নিয়মিত পত্রিকা বের করা। যেন আমাদের মাটির গল্পগুলো বইয়ের পাতায় বেঁচে থাকে।
আমি জানি পথ সহজ না। কিন্তু স্বপ্ন না থাকলে তো লেখা যায় না।
 
যতদিন আছি, লিখে যেতে চাই। কারণ লেখাই এখন আমার কাছে বেঁচে থাকার সবচেয়ে সত্য উপায়।
 
পুনশ্চঃ ভালো কথা, অন্ত্যমিল বুকস কিন্তু আমাদের! 🙂

Related Articles

এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে

এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!