নিজের পরিচয় নিজে দেই।
অনেকেই আমার মিথলজিস্ট পরিচয়ের আড়ালে আমার প্রফেশনাল পরিচয় জানেন না। আবার অনেকেই আমার শখের পরিচয়টাকে অতিরঞ্জিত করে ফেলেন। তাই ভাবলাম, দেখি নিজের সম্পর্কে কী লিখতে পারি আমি। ঢোল পেটানোর মতো হয়ে যাবে, দেখি সেটা ফেটে যায় কি না।
আমার পিতৃপ্রদত্ত নাম সৈয়দ মোহাম্মদ নিয়াজ মাওলা। নবম শ্রেণীতে এসএসসির ফরম পূরণ করার সময় বৃত্ত ভরাটের যন্ত্রণায় আমার সার্টিফিকেট নাম হয়ে গেল এস এম নিয়াজ মাওলা। পরিবারের সদস্যরা এবং বন্ধুরা আমাকে নিয়াজ নামেই ডেকে থাকে।
আমার নাম কেন নিয়াজ, সেটার একটা ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাস বর্ণনায় এখন যাব না। এটুকু বলি ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত আমি দিপু নাম্বার টু এর মতো ৬টা স্কুল পরিবর্তন করে ফেলেছিলাম। আমার সপ্তম স্কুল ছিল বি এ এফ শাহীন কলেজ, ঢাকা। সেখান থেকে এসএসসি দেবার পর ভর্তি হয়েছিলাম ঢাকা কলেজে। নটরডেম কলেজে ভর্তি না হয়ে সম্পূর্ণ আমার ইচ্ছায় ঢাকা কলেজে ভর্তি হবার পর আমার বাবা, মা কে বলেছিলেন, "তোমার ছেলে উচ্ছন্নে গেলো"
উচ্ছন্নে হয়তোবা আমি গিয়েছিলাম। ঢাকা কলেজের পুরোটা সময় প্রেম করে বেড়ানো আমি এইচএসসিতে খুব একটা আশানুরুপ ফলাফল করতে না পারলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের "ঘ" ইউনিটের পরীক্ষায় দারুণ ফলাফল করে পছন্দের আইন বিভাগে ভর্তির সব কাজ প্রায় সম্পন্নই করে ফেলেছিলাম।
কিন্তু বিধাতার ইচ্ছে ছিল অন্যরকম। কালো কোর্টের জায়গায় সাদা এপ্রোন গায়ে চড়লো। একই সাথে দ্বিতীয় প্রেমেরও যবনিকাপাত ঘটেছিল।
মেডিকেল পরীক্ষা শেষে যখন নামের আগে ডা. বসাতে পারলাম, আমার মা তখন এই পৃথিবীতে নেই। তিনিই ছিলেন আমার ডাক্তার হবার নিয়ামক। তিনি চলে যাবার আগে আমার থেকে কথা আদায় করে নিয়েছিলেন, কখনও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি কিংবা ডায়াগনোস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন নিব না, জিপি করতে গিয়ে আমার আসল কাজের ব্যাত্যয় ঘটাবো না।
ফলে প্রথম থেকেই শুধু চাকরী করেছি। অ্যাপোলো হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতাল, সিরাজগঞ্জের খাঁজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেটের নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মাঝে লিবিয়ার গারিয়ানে গারিয়ান টিচিং হাসপাতাল। সবগুলোতেই ছিলাম নিউরোসার্জারিতে। কিন্তু বিসিএস দেবার কোনো আগ্রহ কখনই ছিল না।
এরপর একদিন হঠাৎ করেই চলে আসলাম পাবলিক হেলথে। প্রথমেই আইসিডিডিআর, বিতে। এরই মাঝে নামিরাহ আর নুসাইরাহ এর বাবা হয়ে গেলাম।
২০১৯ এর ফেব্রুয়ারী থেকে আমি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় আছি। কক্সবাজারে।
অন্যদিকে, আমি লেখালেখি শুরু করি সেই স্কুল থেকেই। ব্লগেও লিখতাম। ছদ্মনাম ছিল - ডাক্তারের রোজনামচা। ২০১২ সালে অন্যপ্রকাশ থেকে প্রথম বারোয়ারি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু মিথলজি নিয়ে লেখা শুরু ২০১০ থেকেই। জাগৃতির জলি আপাই প্রথম সাহস করেছিলেন ২০১৭ সালে মিথলজির বিশাল সাইজের বই প্রকাশ করার।
এরপর তো অনেক জল গড়িয়ে গেল।
আমার আগেও মিথলজি নিয়ে বাংলায় অনেকেই লিখেছেন। এখনও লিখছেন। দারুণ লিখছেন। আমি তাদের মধ্যে শুধু একজন। এর বেশি কিছু না।
এই মিথলজি কার্ডটি বানিয়ে দিয়েছে মো. আবদুল কায়েম। "বইপোকাদের আড্ডাখানা"য় কার্ডে মিথলজি ক্যারেক্টারের প্রতিযোগিতা চলছে। দারুণ সব ব্যাপার। বলতে দারুণ লাগছে, এটা আমার জন্মদিন উপলক্ষ্যে আড্ডাখানা আয়োজন করছে। নিজেকে এখন কেউকেটা মনে হচ্ছে, যদিও আমি আসলেই কেউ না।