রাজাদের উপত্যকার সমাধির ভিতরে কেমন লেগেছে?

এই ছবিটা তোলা হয়েছে রাজাদের উপত্যকায়, ফারাও তৃতীয় রামেসিসের সমাধিতে। রাজাদের উপত্যকায় আমি সর্বমোট চারটা সমাধি দেখেছি। তন্মধ্যে তিনটা ছিল ফ্রি, আর তুতানখামুনেরটা দেখতে অতিরিক্ত ৭০০ পাউন্ডের টিকেট কাটতে হয়েছিল।
রাজাদের উপত্যকায় সবচেয়ে বেশি দামের টিকেট ছিল প্রথম সেটির সমাধি। প্রায় ২০০০ পাউন্ডের কাছাকাছি। সম্ভবত এতো খরচ দেখেই আমি আর টিকেট কিনিনি। কিন্তু জানতাম সবচেয়ে দারুণ সমাধিটাই মিস করতে যাচ্ছি। আরেকটি কারণ ছিল না দেখার। গ্রুপে গেলে গ্রুপের অন্যদের ব্যাপারটাও লক্ষ্য করতে হয়। আমি এমনিতেই তুতানখামুনে ঢুকেছিলাম। আমার গ্রুপের কেউই বাড়তি টিকেট কাটেনি। আর আমিও তাই সেটি প্রথমেরটা কাটিনি।
মিশরে যে কয়েকটি জিনিস আমি মিস করেছি ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও, তার মধ্যে একটি হচ্ছে এটি। আরো কিছু জিনিস দেখতে পারিনি-
১) প্রথম সেটির সমাধি (খরচ এবং সঙ্গীর অভাবে)
২) রাণি নেফারতারির সমাধি (বন্ধ ছিল)
৩) মিউজিয়াম অব ইজিপশিয়ান সিভিলাইজেশন (সময়ের অভাবে)
৪) আবিদোস (সময়ের অভাবে)
৫) ডেনডেরা (সময়ের অভাবে)
৬) ফাইয়ূম মরুদ্যান (সিওয়া এবং ফাইয়ূমের মধ্যে আমাকে একটা বেছে নিতে হয়েছে। আমি সিওয়া বেছে নিয়েছিলাম আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের জন্য)
৭) তানিস (আমার যাত্রাপথে ছিল না)
৮) নাবতা প্ল্যায়া (খুবই রিমোট এলাকায় অবস্থিত)
 
রাজাদের উপত্যকার পরপরই আমি যেসব জায়গায় ট্রাভেল গাইড নিয়েছি, সব জায়গায় প্রাইভেট নিয়েছি। দলগত না। ফলে বাকি জায়গাগুলো আমি খুব আরামে দেখতে পেরেছিলাম।
 
রাজাদের উপত্যকার সমাধির ভিতরে কেমন লেগেছে? পিরামিডের চেয়েও মনোমুগ্ধকর।
 
 

Related Articles

এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে

এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!