♥️ ভালোবাসা, যা কখনো বলা হয়নি

♥️ ভালোবাসা, যা কখনো বলা হয়নি
--------------------------------
এখন তো বছরের প্রতিটা মাসেই কোনো না কোনো “ডে”—মাদার্স ডে, ফাদার্স ডে, এই ডে, সেই ডে।আমার বাবা-মা যখন জীবিত ছিলেন, তখন এসব দিনের কথা জানতামই না।
 
হয়তো তখন ছিলও না। অথবা ছিল, কিন্তু আমাদের জীবনে ছিল না। সত্যি বলি, ভালোই ছিলাম আমরা—দিনের ছুতোতে ভালোবাসা দেখাতে হতো না, কারণ তখন ভালোবাসা ছিল নীরব, গভীর, নির্জন নদীর মতো।
আজকালকার ছেলেমেয়েরা দিব্যি বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে, ছবি তোলে, উপহার দেয়, বলে “লাভ ইউ মা”, “লাভ ইউ বাবা”—আমি পারতাম না। পারতাম না বলেই নয়, সাহস ছিল না।
 
বাবাকে দেখলেই ভয় পেতাম, যেন যমদূত! আর মাকে সব কথা বলা যেত না, তবু মা-ই ছিলেন আমার পৃথিবী।তিনিই ছিলেন সে মানুষ, যার কানে চুপিচুপি বলে ফেলতাম আমার চাওয়া-পাওয়া।
 
কিন্তু মা তো সব দিতে পারতেন না। কারণ, চাওয়ার শেষ ঠিকানা ছিল বাবা। সেখানে গিয়ে অনেক কিছুই হারিয়ে যেত। হয় কাট, নয় ছাঁট। তাই আমাদের ভালোবাসাগুলোও হয়ে যেত সংক্ষিপ্ত, সংযত, আর অসম্পূর্ণ।
আমার কখনো বলার সুযোগ হয়নি—আমি মা-বাবাকে কতটা ভালোবাসি। তাদের জীবদ্দশায় বুঝতেই পারিনি, তাঁরা আমায় কতটা ভালোবাসেন। তাঁরা কখনো নিজেদের আবেগ মুখে বলতেন না।কিন্তু কখনো “ভালোবাসি” না বললেও, জানতাম—ভালোবাসা বয়ে চলেছে, নীচের দিকে, চুপচাপ, নদীর স্রোতের মতো।
 
এখনো আমি জানি না আমি তাঁদের কতটা ভালোবাসি। ভালোবাসতাম কিনা, তাও জানি না। কারণ, সেই উপলব্ধির সুযোগ আসার আগেই জীবনের তাড়ায়, বেঁচে থাকার ব্যস্ততায়, আমি শুধু একটা কথাই অনুভব করি—এই দুইজন মানুষকে আমার এখনো কতটা প্রয়োজন! কতটা ভয়াবহভাবে প্রয়োজন!
 
এই অভাব কোনো “মাদার্স ডে” বা “ফাদার্স ডে” দিয়ে পূরণ হয় না। এই ভালোবাসা এখন শব্দ নয়, নীরবতা। তাঁদের নেই-থাকার মধ্যেই আজ আমার সবচেয়ে গভীর অনুভব -
তাঁরা ছিলেন। তাঁরা আছেন। আর তাঁরা চিরকাল থাকবেন।
 
ভালোবাসা রইলো, মা।
ভালোবাসা রইলো, বাবা।
যা কোনোদিন ঠিকঠাক বলা হয়নি।
 
(ছবিটি এআই দিয়ে বানানো।)
 
 

Related Articles

এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে

এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!