আজ ছবির এই মেয়েটির জন্মদিন।
জন্মদিনে সে দেশ থেকে, প্রিয় মানুষজন থেকে অনেক দূরে একাকী অবস্থান করছে। রাত বারোটায় তাকে জাগিয়ে কেউ বলে নাই—“কেক কাটো!” জন্মদিনের বিকেলে সে পারে নাই প্রিয় মানুষদের বলতে, “চলো, বাইরে গিয়ে চটপটি খাই!” তবু দূরদেশের নীল আকাশের নিচে, একাকী বসে সে হয়তো নিজের জন্যই মোমবাতি জ্বালিয়েছে—একটা নিঃশব্দ শুভেচ্ছা দিয়েছে নিজেকেই।
প্রিয় মানুষদের অনুপস্থিতি যেমন বেদনাদায়ক, তেমনি নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শক্তিটা টের পাওয়া যায় এমন দিনেই। হয়তো ওর বুকের ভেতর একটু কষ্ট আছে—দেশের গন্ধ, পরিচিত মুখ, ছাদের ওপরে বসে বন্ধুদের হইচই—সব কিছু যেন দূরের অন্য কোনো জীবনের অংশ। কিন্তু তবু আজকের দিনটা তার। আজকের এই একাকী সন্ধ্যাতেই হয়তো সে বুঝবে—ভালোবাসা শুধু চারপাশের মানুষ নয়, নিজের ভেতরের সাহসেও বাস করে।
যে মেয়ে আজ এই দূর শহরে একা থেকেও হাসতে পারছে, নিজের কাঁধে হাত রেখে বলছে “আমি পারব”—সে-ই আসলে সত্যিকার অর্থে শক্ত, স্বাধীন, সুন্দর।
তার আজকের নিঃসঙ্গ জন্মদিনটাই হয়তো একদিন হয়ে উঠবে সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি—কারণ আজকের এই নীরব দিনটাই তাকে শিখিয়ে দিচ্ছে, কীভাবে ভালো থাকা যায়, এমনকি কেউ না থাকলেও।