তুতানখামুনের সমাধিও অধিকবার লুন্ঠিত হয়েছিল

তুতানখামুনের সমাধিও অধিকবার লুন্ঠিত হয়েছিল

২৬ নভেম্বর ১৯২২ সাল!

আর্ল কার্নারভন আর হাওয়ার্ড কার্টার তখনো জানতেন না, কী অবিশ্বাস্য জিনিস তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। ঐদিন বিকেলের দিকে তারা রাজাদের উপত্যকায় সদ্য পাওয়া এক ছোট সমাধির ভিতরের দেয়ালে একটা ছোট ছিদ্র করলেন।

লর্ড কার্নারভন পরে বলেছিলেন, "মিস্টার কার্টার হাতে একটা মোমবাতি নিয়ে ছিদ্রের ভেতর মাথা ঢুকিয়ে দেখছিলেন। দুই–তিন মিনিট কিছুই বললেন না। আমি দুশ্চিন্তায় পড়ে ভাবলাম, হয়তো আবার কিছুই পেলাম না। তাই বললাম, ‘কিছু দেখতে পাচ্ছেন?’


তিনি উত্তেজিত গলায় বললেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ—অসাধারণ!’

এভাবেই তুতানখামুন আবিষ্কৃত হয়েছিলেন। তুতানখামুন নিজের সময়ে খুব একটা শক্তিশালী কিংবা জনপ্রিয় ফারাও ছিলেন না। ক্ষমতায় এসেছিলেন নয় বছর বয়সে। অল্প বয়স হওয়াতে কোনো রাজসিদ্ধান্ত নিজের মতো করে নিতে পারেননি। তাকে সবসময় চোখে চোখে রেখেছিলেন তার প্রধান উজির আইয়ি এবং প্রধান সেনাপতি হোরেমহেব।

তাছাড়া তিনি তেমন কোনো যুদ্ধও করেননি, তার বাবার কারণে প্রজাদের মধ্যেও অজনপ্রিয় ছিলেন। ফারাও হিসেবে ছিলেন মাত্র দশ বছর। তারপর হয়তো মারা গিয়েছেন, কিংবা তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

কিন্তু বর্তমানকালের এই যে ইজিপ্টোম্যানিয়া বা মিশরের ট্যুরিজম রিভাইভ করেছে তুতানখামুনের জন্যই। কারণ, ১৯২২ সাল পর্যন্ত তুতানখামুনের সমাধিই ছিল একমাত্র সমাধি, যা অক্ষত পাওয়া গিয়েছিল, যাতে তুতানখামুনের মমি ছিল, যেখানে সম্পদের ছড়াছড়ি ছিল।

✔️ কিন্তু আপনি জানেন কি সমাধিস্থ করার পর তুতানখামুনের সমাধিও কমপক্ষে একের অধিকবার লুন্ঠিত হয়েছিল❓

➖ প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ তাই বলে! কিছু সমাধিরত্নের অবস্থান এবং ধ্বংসাবশেষ দেখে হাওয়ার্ডের কাছে তাই মনে হয়েছিল। যদিও ধারণা করা হয়, অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সমাধি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং এরপর আর তা লোকচক্ষুর সামনে আসেনি ১৯২২ সালের ৪ নভেম্বরে সিড়ি আবিষ্কারের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। আর যে একবার কিংবা দুইবার লুন্ঠিত হয়েছিল, তখনও চোরেরা খুব বেশি জিনিস নিয়ে যেতে পারেনি।

📸 পরিচিতি:
ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে ফারাও তুতানখামুন এবং তার স্ত্রী আঙ্খেসেনামুনকে। তুতানখামুন হাতে রাজদণ্ড ধরে আছেন, আর তার স্ত্রী ভালোবাসা ও যত্নের ভঙ্গিতে তার দিকে ফুল বাড়িয়ে দিচ্ছেন—এ যেন রাজকীয় ভালোবাসার এক কোমল দৃশ্য। ছবিটি পাওয়া গিয়েছিল তুতানখামুনের সমাধির ভেতরের এক অলংকৃত কাঠের বাক্সের গায়ে।

#Tutankhamun #HowardCarter #LordCarnarvon #Egyptology #ValleyOfTheKings #AncientEgypt #Mummy #Pharaoh #EgyptianHistory #Archaeology #মিশর #তুতানখামুন #প্রাচীনমিশর #মমি #রাজাদের_উপত্যকা #মিশরীয়_ইতিহাস #ইজিপ্টোম্যানিয়া #ইতিহাস #প্রত্নতত্ত্ব #রহস্য 
 

Related Articles

এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে

এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!