ছোটবেলায় একটা রচনা লিখতাম।
আমার জীবনের লক্ষ্য।
শিক্ষক বলতেন, লেখো। আমরা লিখতাম। কলমের ডগায় কারো স্বপ্ন ছিল না, ছিল কেবল অভ্যাস। মুখস্থ করা কিছু বাক্য, যেগুলো বুকের ভেতর থেকে আসেনি কখনো। আমি লিখতাম, মানুষ হতে চাই। অথচ জানতাম না, মানুষ হওয়া মানে আসলে কী।
বড় হতে হতে শিখলাম, স্বপ্নেরও একটা নাম থাকা চাই। ডাক্তার, নয়তো ইঞ্জিনিয়ার। প্রতিটি বাড়িতে রাত জাগত এই দুটো শব্দকে কেন্দ্র করে। উচ্চমাধ্যমিকের পর যেন যুদ্ধের ডাক পড়ত, আর সবাই ছুটত এক অদৃশ্য যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে। আমিও ছুটেছিলাম। দলের একজন হয়ে।
কিন্তু কেউ কোনোদিন বলেনি, সুখের কথা।
ছোটবেলায় একটা গল্প পড়েছিলাম। এক সুখী মানুষের গল্প। মানুষটার কিছুই নেই, তবু সে সুখী। তখন অবাক হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, এ কেমন অদ্ভুত সমীকরণ। যেখানে প্রাপ্তি নেই, সেখানে আনন্দ জন্মায় কীভাবে। মনে হতো, নিশ্চয়ই গল্পের ভেতর কোনো ফাঁকি আছে।
আজ বুঝি, ফাঁকি গল্পে ছিল না, ছিল আমার বোঝায়।
এখন আমি সুখী হতে চাই। এই ইচ্ছেটা আর শেখানো নয়, নিজের ভেতর থেকে উঠে আসে। কখনও নিঃশব্দে, কখনও অকারণে বুকের ভেতর ধাক্কা দেয়। সেই মানুষটাকে খুঁজে ফিরি, যে কিছু না পেয়েও পূর্ণ থাকে।
আর ভাবি, আমি তো চেয়েছি তোমাকে। সমস্ত মন দিয়ে, সমস্ত অস্থিরতা দিয়ে, সমস্ত অনুচ্চারিত কথার ভেতর দিয়ে। তোমাকেই।
তবু কেন এত শূন্যতা জমে থাকে চারদিকে।
তবু কেন রাতের শেষে মনে হয়, কিছুই পেলাম না।
তবু কেন তোমাকে পেয়েও না পাওয়ার মতো এক দীর্ঘ প্রতিধ্বনি বুকে বাজতে থাকে।
কিছু কিছু অভাব থাকে, যাদের কোনো ভাষা নেই। শুধু থাকে একটানা নীরবতা, আর তার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া অদৃশ্য হাহাকার।