ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের সামনে দাঁড়ালে বিশাল এক দেয়াল চোখে পড়ে

গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের সামনে দাঁড়ালে বিশাল এক দেয়াল চোখে পড়ে—যেটা দেখতে অনেকটা আধুনিক পিরামিডের মতো। এই দেয়ালের গায়ে খোদাই করা আছে শত শত কার্টুশ, অর্থাৎ প্রাচীন মিশরের রাজা–রানিদের নাম। সেই দেয়ালের মাঝ বরাবর একটা ছোট ছিদ্র বা ফাঁক দেখা যায়। অনেকেই ভাবে এটা হয়তো শুধু বাতাস চলাচলের জন্য রাখা একটা ভেন্টিলেশন শ্যাফট, কিন্তু আসলে বিষয়টা আরও গভীর ও প্রতীকী।
 
এই ছিদ্রটি ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি মিশরের সূর্য ও রাজত্বের প্রতীককে ধারণ করে। স্থপতিরা বলেন, পুরো মিউজিয়ামের কাঠামো এমনভাবে বানানো হয়েছে যে এর মূল অক্ষ (axis) গিজার গ্রেট পিরামিডের দিক বরাবর চলে গেছে। মানে, এই ছিদ্রটি আসলে সূর্যের প্রতীকী পথকে নির্দেশ করছে—যেভাবে প্রাচীন মিশরীয়রা বিশ্বাস করত সূর্যই জীবন, পুনর্জন্ম আর দেবত্বের প্রতীক।
 
অনেকে বলেন, এই ছিদ্রের মধ্য দিয়ে বছরে দু’দিন সূর্যের আলো সরাসরি মিউজিয়ামের ভেতরের রামেসিস দ্বিতীয়ের বিশাল মূর্তির মুখে গিয়ে পড়ে—যেভাবে আবু সিম্বেলের মন্দিরে হয়। সেই দিন দুটি নাকি রামেসিসের জন্মদিন ও রাজ্যাভিষেক দিবস। তবে এই দাবির পক্ষে এখনো কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুরোনো স্থপতি ও প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, মিউজিয়ামের দেয়ালের এই খোলা অংশটি আসলে সূর্যালোকের প্রতীকী পথকে বোঝায়, বাস্তব কোনো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব নয়।
 
তবু ধারণাটা অসাধারণ। প্রাচীন মিশরের মতোই, আজও তারা সূর্যকে দেবতার প্রতীক হিসেবে স্মরণ করছে—কখনো বাস্তব আলোয়, কখনো স্থাপত্যের নকশায়। তাই গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের এই ছোট ছিদ্রটা হয়তো সত্যিকারের আলোর পথ নয়, কিন্তু এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষ এখনো সেই প্রাচীন সভ্যতার আলোয় পথ খোঁজে।
 
 

Related Articles

এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে

এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!