এই ছবিটা গ্রেট পিরামিডের কিংস চেম্বারে

এই ছবিটা গ্রেট পিরামিডের কিংস চেম্বারে তোলা। ছবিটি আমার অনুরোধে তুলে দিয়েছিলেন এক ফ্রেঞ্চ ভদ্রলোক। ছবি তোলা শেষ হলে তার সঙ্গীনি হাসতে হাসতে বললেন, "এবার টিপস দাও"।
 
মিশরে এই টিপস প্রথা মিশরের অনেক দিনের ঐতিহ্য বা সংস্কৃতি হলেও এটা এখন ট্যুরিস্টদের কাছে আতঙ্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। এই প্রথা চালু হয়েছিল মিশরের নিম্নবিত্তদের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য। বিশেষ করে যারা হোটেলে কাজ করে, ট্যাক্সি চালায়, ট্যুরে হেল্প করে, গাইড - এদের জন্য। যারা আসলে কম টাকা পায় চাকরী করে। এবং টিপস নিয়ে না কি বার্গেইনিং করলে এরা অভদ্র ভাবে। টিপসের পরিমাণ সাধারণত বলা হয়ে থাকে ২০ ইজিপির মতো। কিন্তু এখন এরা কমপক্ষে ২০০ ইজিপি ছাড়া মুখ ভার করে, অনেক সময় তো ডলার চেয়ে বসে!
 
ছবিটি তোলা হয়েছে খুফুর সারকোফাগাসের সামনে। খুফুর সারকোফাগাসে খুফুর মমি পাওয়া যায়নি। ইনফ্যাক্ট খুফুর মমি কোথাও পাওয়া যায়নি। এমনকি এখন পর্যন্ত তার একটি মাত্র ছোট আকারের মূর্তি পাওয়া গেছে। হাতির দাঁতের তৈরী এই মূর্তিটি ৭.৫ সেমি লম্বা। সবচেয়ে বড় কথা এটাতে এমন নিদর্শন আছে, যাতে মনে হয় খুফু শুধুমাত্র লোয়ার ইজিপ্টের শাসক ছিলেন। এমনকি এটা তার সময়ে তৈরী করা হয়েছিল কি না, তারও নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। এটি পাওয়া গিয়েছিল ১৯০৭ সালে আবিদোসে।
 
গ্রেট পিরামিডের নির্মাতার মমি নেই, একটা ছাড়া আর কোনো মূর্তিও নেই!
 
মমি না পাওয়া যাওয়ার একটা কারণ থাকতে পারে গ্রেট পিরামিডের সিনোটাফ পিরামিড বানানো হয়েছিল। সম্ভবত সেই সিনোটাফেই খুফুকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল, যা এখনো আবিষ্কার হয়নি।
সিনোটাফ কী, সেটা নিয়ে আরেকদিন...
 
 

Related Articles

এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে

এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!