মিশরের মানুষজন কতটুকু স্ক্যামার?

মিশরের মানুষ স্ক্যামার - এটা যেমন সত্য, তেমন মিথ্যে। মিশরের সাধারণ মানুষজন হয়তো সাধারন ভালো মানুষ, কিন্তু যারা প্রাচীন মিশর নিয়ে ব্যবসা করেন, তারা সবাই স্কামারস। কেউ বেশি। কেউ কম।
আজ সকালে যখন গিজা কমপ্লেক্সের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম, মূল গেট থেকে যখন আর মাত্র দুই মিনিটের রাস্তা, ভুলক্রমে একজনকে জিজ্ঞাসা করে ফেললাম- দুই মাথা রাস্তার কোনটাতে মূল গেট? সেইজন ১০ মিনিট ধরে দুই নাম্বার পথটা দিয়ে ঘুরিয়ে এক নাম্বার পথে নিয়ে আসলো, যা দিয়ে আসলে দুই মিনিটেই মূল গেটে আসতে পারতাম। যদিও তাকে প্রথম থেকেই বলেছিলাম আমার সাথে না আসার জন্য। শুধু তাই না, সে এরপর ডলার চেয়ে বসলো। সে না কি আমাকে বিশাল উপকার করেছে!
 
গিজা কম্পপ্লেক্সের ভিতরে উট আর ঘোড়াতে রাইড করার জন্য যেভাবে উপায় অবলম্বন করে, আমি অবাক হয়ে যাই। ভালো স্ক্যামারও আছে। ইনফ্যাক্ট আমি এবার জেনে শুনেই স্বেচ্ছায় এরকম এক স্ক্যামারের পাল্লায় পড়েছি। খরচ বেশি পড়েছে, কিন্তু অসাধারণ কাজে দিয়েছে।
 
আবার যখন গ্রান্ড মিউজিয়ামের দিকে যাচ্ছিলাম, এক পর্যায়ে উবারে বাইক কল দিলাম। আমার সিম দেশীয় হওয়াতে উবার চালক পারছে আমাকে কল দিতে, আর আমি না পারছি তাকে কল দিতে। যে খাবারের দোকানের সামনে দাড়িঁয়েছিলাম, সেই দোকানের মালিক ইংরেজি জানেন না, কিন্তু চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন বাইকটাকে খুঁজে বের করতে।
 
মিশরে এই একটা সমস্যা। খুব কম মানুষই ইংরেজি জানে। সেটা কী আদৌ সমস্যা? আমাদের দেশেও কতজন মানুষ ইংরেজি জানে?
 
একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি, অন্য দেশের মানুষেরাও ট্যাক্সি এভয়েড করে, উঠতে চায় না। মিউজিয়াম থেকে বের হয়ে যখন বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, একজন ট্যাক্সি চালককে জিজ্ঞাসা করেই বসলাম - তোমাদের গাড়িতে চড়তে মানুষ ভয় পায় কেন? গড় বড় করে কী যেন বলে গেল। প্রচন্ড ক্লান্তিতে শুধু এইটুকু বুঝতে পারলাম - সে বলছে উবারে ভাবে সেইফটি আছে! আমি মনে মনে বললাম, তা না বাপু! তোমরা হচ্ছ ফটকাবাজ। গতকালকে আমি যে ট্যাক্সিতে এয়ারপোর্ট থেকে গিজাতে এসেছি, এসি ছাড়ে নাই। কারণ আমি না কি টাকা ঠিক করার সময় এসির কথা বলি নাই!
 
যাহোক, ধীরে ধীরে এখানে বেশ কিছুই লিখব। তার আগে বলে যাই, আজ কী কী করেছি...
 
🔺 খুফুর পিরামিডের ভেতরে ঢুকেছি
🔺 খুফুর মা রাণি হেতেফেরেসের পিরামিডের ভেতর প্রবেশ করেছি। এই রাণির মমি নিয়ে দারুণ এক গল্প আছে
🔺 রাণি মেরেসাংখের (ফারাও খেফ্রেনের স্ত্রী) মাস্তাবাতে ঢুকেছি। এটাতে ঢুকতে ২০০ ইজিপশিয়ান পাউন্ড লাগে। অথচ আমি যখন গিয়েছি, কেউ নেই! ফাঁকা। এমনকি কেয়ারটেকারও নেই। তাই ভিতরে ঢুকতেও পারছিলাম।না। যে গাইডকে আমি একটু বেশি টাকাই দিয়েছি, সেই শেষ পর্যন্ত কেয়ারটেকারকে হাজির করেছে। আমার দেখা গিজা কমপ্লেক্সের সবচেয়ে বেস্ট সমাধি এটাই, এমনকি খুফুর পিরামিডও না! এটাতে ছবি তোলা বা ভিডিয়ো করা নিষেধ, ২০০ ইজিপি ঘুষ দিয়ে সেটাও করেছি!
🔺 খেফ্রেনের পিরামিড
🔺 মেনকাউরের পিরামিড
🔺 রাণিদের পিরামিড
🔺 শ্রমিকদের কবরস্থান
🔺 দ্য গ্রেট স্ফিংক্স
🔺 ভ্যালি টেম্পল
🔺 পিরামিড কমপ্লেক্স থেকে হেঁটে গ্রান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামে যাবার সময়ে মিশরীয় সরকারের প্যাপিরাস মিউজিয়ামে গিয়েছিলাম এসির মধ্যে একটু বিশ্রাম নেবার জন্য। কথায় কথায় ম্যানেজারকে পটিয়ে ফেললাম। আমাকে দেখানো হলো কীভাবে প্যাপিরাস তৈরী করা হয়। ভিডিয়ো করে ফেললাম।
🔺 গিজার নতুন কবরস্থান
🔺 প্যানোরোমা ভিউ
🔺 হর্স রাইড
🔺 ক্যামেল পিকচার
🔺 গ্রান্ড ইজিপশিয়ান মিজিয়াম
 
ছবি পরিচিতি: এই ছবিটা একটা দুর্দান্ত জিনিসের। দেখাই যাচ্ছে, ডাইস খেলার ডাইস। ছবিটা তোলা হয়েছে গ্রান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম থেকে। ভালো কথা, ডাইসটা মিশরের প্রাচীন রাজবংশের সময়কালের।
 
 

Related Articles

এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে

এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!