গিজার গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামে

ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো রাজা তুতানখামুনের সম্পূর্ণ ধনভাণ্ডার এক ছাদের নিচে একত্রিত হয়েছে — গিজার গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামে।
 
চার হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে ছড়িয়ে থাকা এই অমূল্য সম্পদ আজ এক জায়গায় ফিরে এসেছে, যেন সময় নিজেই অতীতের পাতা খুলে দিয়েছে।
 
তুতানখামুন — মাত্র উনিশ বছর বয়সে যিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন, কিন্তু রেখে গেছেন অমর এক ঐতিহ্য। মৃত্যুর পর তাঁর সমাধি থেকে পাওয়া পাঁচ হাজারেরও বেশি বস্তু — স্বর্ণের মুখোশ, সোনার পালঙ্ক, যুদ্ধরথ, অস্ত্র, অলংকার, তাবিজ, এমনকি তাঁর শিশুকালের খেলনাও — আজ সবই একসাথে রাখা হয়েছে এই মিউজিয়ামে।
 
এগুলোর অনেক কিছুই আগে কখনও জনসাধারণের সামনে প্রদর্শিত হয়নি।
 
গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের বিশাল গ্যালারিতে প্রবেশ করলে মনে হয়, যেন দর্শক সময়ের সিঁড়ি বেয়ে ফিরে যাচ্ছে প্রাচীন মিশরের সোনালি যুগে। আলো-ছায়ার এক অলৌকিক পরিবেশে সাজানো প্রতিটি নিদর্শন যেন জীবন্ত হয়ে বলে উঠছে তরুণ রাজাধিরাজের গল্প — যিনি একদিকে ছিলেন শিশু রাজা, অন্যদিকে মিশরের অমর প্রতীক।
 
গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের এই উদ্বোধনের মাধ্যমে যেন পৃথিবী আবার নতুন করে প্রবেশ করল মিশরের “সোনালি যুগে” — সেই যুগে, যেখানে রাজারা ছিলেন দেবতার প্রতিমূর্তি, আর শিল্প ছিল অমরত্বের ভাষা।

Related Articles

এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে

এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!