যদি একদিন আমি মেঘের আঁচলে মিশে যাই, যদি এই পৃথিবীর সমস্ত আলো-হাওয়া থেকে মুছে যাই—
তোমার চোখে কি তখন একটুখানি অন্ধকার ঘনিয়ে আসবে?
কোনো এক তপ্ত দুপুরে, যখন রোদ চিড়ে ফেলবে মাটির চামড়া,
কিংবা সন্ধ্যার লাল আভায় যখন আকাশ কাঁদে নিঃশব্দে—
তোমার পাতলা হৃদয়ের কোণে কি আমার নামটা আঁচড় কাটবে?
জানি, উত্তর দিবে না।
জানি, উত্তর দিলেও তা হবে মিথ্যার মোড়কে জড়ানো এক করুণ সান্ত্বনা।
মানুষের স্মৃতি তো নদীর বালির মতো—যতই মুঠোয় ধরতে চাই, ততই ফসকে যায়।
আমিও তো একদিন ফসকে যাব।
তোমার সংসারের টুকরো সুখে, বাচ্চাদের হাসির শব্দে,
আর প্রতিদিনের হাঁসফাঁসে ছুটোছুটিতে আমি হয়ে যাবো এক অতীতের ধুলো-জড়ানো গল্প।
কিন্তু জানো, আমার ভয়টা কোথায়?
ভয় এই নয় যে আমি হারিয়ে যাব—
ভয় এই যে, যে দিন তুমি আমাকে ভুলে যাবে,
সেদিন আমার ছায়াটা কী করে বেঁচে থাকবে তোমার ফাঁকা দেয়ালে?
সেদিন আমার নামের আঁচড়গুলো কী করে মুছবে সময়ের ঘষায়?
আর আমি—যে আমি তোমার স্মৃতির গহীনে ডুবে থাকবো—
কী করে সহ্য করবো সেই নিঃশব্দতা, যে নিঃশব্দতায় আমার অস্তিত্বটাই শুধু নয়,
আমার অনুপস্থিতিটাও কেউ টের পাবে না?
হয়তো একদিন খুব দূরে চলে যাব—
যেখানে আলো নাই, শব্দ নাই, কেবল অন্ধকারের সঙ্গে আমার একলা কথোপকথন।
সেখানে বসে ভাববো:
"জানি, আজ তুমি আমাকে ভুলেছ।
জানি, আজ তোমার চোখে আমার জন্য এক ফোঁটা জলও ঝরেনি।
তবু... তবু এই ভুলে যাওয়াটাই আমার শেষ সত্য।
আর এই সত্যের ভারটাই আমি বহি প্রতিদিন—
নিঃশব্দে, নির্জ্ঞানে, একা।"
মানুষের ভুলে যাওয়াই হয়তো সবচেয়ে বড় মৃত্যু।
আর আমি সেই মৃত্যুর দিকে হাঁটছি—
তোমারই স্মৃতির মরুভূমিতে পা বাড়িয়ে।
