হিংসে হয়। সত্যিকারের হিংসে।
আজকালকের ছেলেমেয়েগুলোকে দেখি আর বুকের ভেতরে একটা চিনচিনে ব্যথা টের পাই। ওরা কীভাবে জীবন কাটাচ্ছে সেটা নিয়ে না, হিংসেটা অন্য জায়গায় আটকে আছে — বাবা-মায়ের সাথে যেভাবে কথা বলে। অবলীলায়, অনায়াসে, যেন শ্বাস নেওয়ার মতোই স্বাভাবিক। যেন ঘরের মানুষগুলো সত্যিই ঘরের মানুষ।
আমার কাছে এটা ছিল না।
বাবা-মা দুইজনরেই আপনি ডাকতাম। তুমি বলার সাহস কোনোদিন হয়নি। সম্পর্কের ভেতরে একটা অদৃশ্য দেয়াল ছিল — ভালোবাসা ছিল হয়তো, কিন্তু সেই ভালোবাসা কোনোদিন গলে গিয়ে কাছে আসেনি। দূর থেকেই দেখেছি, দূর থেকেই ভালোবেসেছি।
মায়ের কাছে যা চাওয়ার সব নিয়ে যেতাম। কিন্তু কতটুকুইবা চাওয়া থাকে! দুইবেলা ভাত, একটু আদর, মাঝে মাঝে কিছু একটা পাওয়ার ইচ্ছে — এইটুকুই তো। আর তাঁর সাধ্যের কথা জানতাম, তাই বেশিরভাগ আব্দার গলার ভেতরেই মরে যেত। বলা হত না। উনিও জিজ্ঞেস করতেন না। দুইজনে জানতাম, দুইজনে চুপ থাকতাম।
আর বাবার সাথে কথা? সেখানে কথা ছিল না, ছিল শুধু যুদ্ধ। টাগ অব ওয়ার — দুইদিক থেকে টান, কেউ ছাড়ে না, কেউ হারে না, শুধু মাঝখানের দড়িটা দিনের পর দিন টানটান হয়ে থাকে। কী নিয়ে এত যুদ্ধ হত এখন আর মনে নেই। কিন্তু সেই অনুভূতিটা এখনো শরীরে আছে — বুকটা শক্ত হয়ে যাওয়া, গলার কাছে কী একটা দলা পাকিয়ে থাকা, কথা বলতে গিয়ে থেমে যাওয়া।
নির্ভয়ে কথা বলা হয়নি কোনোদিন। স্বাচ্ছন্দ্যে তো দূরের কথা।
আজকালকের ছেলেমেয়েগুলো হাসতে হাসতে বাবাকে ডাকে, মায়ের সাথে বন্ধুর মতো আড্ডা দেয়। দেখি আর মনে মনে ভাবি — এই সহজটুকু যদি পেতাম, যদি একটু নির্ভার হতে পারতাম নিজের ঘরে — জীবনটা কি তাহলে একটু অন্যরকম হত?
জানি না।
আর এখন জানার উপায়ও নেই।