ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে প্রাচীন মিশরের ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন—বালক-ফারাও তুতানখামুনের কাঠের মুখমণ্ডল। এই ভাস্কর্যটি এখন প্রদর্শিত হচ্ছে গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম (GEM)-এ, যেখানে তুতানখামুনের সমাধি থেকে পাওয়া পাঁচ হাজারেরও বেশি নিদর্শনের মধ্যে এটিও অন্যতম মূল্যবান এক শিল্পকর্ম। এটি মূলত পরিচিত Head of Nefertem নামে।
এটি মূলত একধরনের মডেল হেড, যা রাজকীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় ব্যবহৃত হয়েছিল। প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, এই মূর্তিটি ছিল কোনো ক্যানোপিক কফিনেট বা দেবতার প্রতিরূপের অংশ—যেখানে রাজাকে তার মৃত্যুর পর দেবত্ব প্রদান করার ধারণাটি প্রতিফলিত হয়েছে। এর উপাদান কাঠ, যার ওপর গোল্ড লিফ (সোনার পাত) এবং রঙিন রঙের ব্যবহার ছিল। সময়ের ক্ষয়চিহ্নে আজ অনেক অংশ উঠে গেলেও, মূর্তিটির চোখের গভীর দৃষ্টি আর ঠোঁটের সূক্ষ্ম বাঁক এখনো অবিশ্বাস্যভাবে জীবন্ত।
তুতানখামুনের এই মুখের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর যৌবনের স্পর্শ—একটি কিশোর মুখ, কিন্তু রাজকীয় মর্যাদার গাম্ভীর্য তাতে স্পষ্ট। তার দৃষ্টি যেন সময়কে ভেদ করে দাঁড়িয়ে আছে—একদিকে কৌতূহল, অন্যদিকে আত্মসম্মান। চিবুকে হালকা দৃঢ়তা, চোখে গভীর ভাব, আর ঠোঁটে প্রায় অদৃশ্য এক হাসি—যেন মৃত্যুর পরও রাজা বলছেন, “আমি আছি।”
রাজা থাকলেও এই মুখন্ডলের আবিষ্কারের কাহিনি আজও ধোঁয়াশায় পরিপূর্ণ। কারণ, যিনি তুতানখামুনের সমাধি খনন করেছিলেন—হাওয়ার্ড কার্টার—তিনি এই মূর্তির কোনো উল্লেখই করেননি তাঁর খননের নোটবুকে।
১৯২৪ সালে পিয়েরে লাখো আর রেক্স এঙ্গেলবাখ এই মূর্তিটা খুঁজে পান রামেসিস একাদশের সমাধিতে (KV4)। তখন ওই সমাধিটা ব্যবহার করা হচ্ছিল তুতানখামুনের সমাধি খননের সময় পাওয়া জিনিসপত্র রাখার গুদামঘর হিসেবে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, মূর্তিটা পাওয়া গিয়েছিল একটা বাক্সে, লাল ওয়াইনের বোতলের ভেতরে।
সেই সময় হাওয়ার্ড কার্টার মিশরে ছিলেন না, কারণ ধর্মঘটের কারণে তুতানখামুনের সমাধি বন্ধ ছিল এবং খনন লাইসেন্সও বাতিল হয়েছিল। পরে যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি বলেন—তিনি নাকি এই মূর্তিটা পেয়েছিলেন তুতানখামুনের সমাধির (KV62) দরজার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে।
কিন্তু সমস্যা হলো, তাঁর প্রথম দফার খনন নোটে এই মূর্তির কোনো উল্লেখ নেই। সেখানে তিনি শুধু লিখেছিলেন কিছু ভাঙা অ্যালাবাস্টার পাত্র আর রঙিন মাটির ফুলদানি পেয়েছিলেন। এমনকি এই মূর্তির কোনো ছবিও নেই তাঁর নোটবুকে, অথচ বাকি জিনিসগুলোর ছিল।
এই সব কারণেই প্রত্নতত্ত্ববিদদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়—হাওয়ার্ড কার্টার হয়তো এই মূর্তিটা গোপনে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তাই এখনো পর্যন্ত নেফারতেমের মাথা পাওয়া নিয়ে বিতর্ক থামেনি।
স্থান: গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম, গিজা, মিশর
নিদর্শন: তুতানখামুনের কাঠের মুখমণ্ডল (Wooden Head of Tutankhamun)
সম্ভাব্য সময়কাল: খ্রিষ্টপূর্ব ১৩৩০–১৩২৩
উপাদান: কাঠ, সোনার পাত, রঙিন রঞ্জক
#Tutankhamun #GrandEgyptianMuseum #EgyptianArt #PharaohLegacy #AncientEgypt #MummyKing #TimelessCivilization
#GoldenAgeOfEgypt #GEM #HistoryLivesHere #তুতানখামুনের_সমাধিরত্ন #তুতানখামুন #headofnefertem