আমি যখন থেকে মিশরে আসার প্ল্যান করেছি, একটা ইচ্ছে ছিল নুবিয়ানদের সাথে এক বেলা সময় কাটাবো। এমনকি ঈদের দিন ওদের সাথে আমার সময় কাটানোর কথাও আছে।
অবশ্য আজ এলিফ্যান্টাইন দ্বীপে গিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে এক নুবিয়ান ক্যাফেতে কফি খেলাম। নুবিয়ানদের সাথে মিশরীয়দের চেয়ে সুদানিজদের বেশি মিল। এদেরকে বলা হয় কালো, দেখতেও কালো! কিন্তু মন?
অনেক সাদা, অন্ততপক্ষে মিশরীয়দের চেয়ে তো বটেই। একসময় নুবিয়ানদের নিজেদের রাজ্য ছিল, রাজা ছিল। মিশরীয়রা তাদেরকে পরাজিত করে দাস হিসাবে ব্যবহার করত। অথচ নুবিয়ানরাই পরবর্তীতে একসময় পুরো মিশর দখল করেছিল। যারা ছিল একসময়ের দাস, তারাই হয়ে উঠেছিল শাসক।
অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, তারা শাসক হয়ে মিশরীয়দের প্রতি প্রতিশোধ নেয়নি। বরঞ্চ হারিয়ে যাওয়া অনেক মিশরীয় রীতির পুন:প্রচলন করেছিলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল পুনরায় পিরামিড নির্মাণ। নুবিয়ানদের পিরামিড অবশ্য পুরাতন যুগের পিরামিড থেকে ভিন্ন ছিল। ইতিহাসে এরাই হচ্ছেন মিশরের হারিয়ে যাওয়া কালো রাজাদের দল, ২৭তম রাজবংশ। মিশরীয়রা খুব সুকৌশলে এদেরকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে।
ধারণা করা হয়ে থাকে, আমেরিকার ওলমেক সভ্যতায় যে মাথার মূর্তিগুলো পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলো সম্ভবত নুবিয়ান কিংবা ইথিওপিয়ানদের।
আমি যাকে আল আমিন ভেবেছিলাম, তার নাম আসলে উমর। উমর কিন্তু মিক্সড - সুদানিজ এবং নুবিয়ান। সে সৌদি আরবে ছিল। তখনই বাংলাদেশ সম্পর্কে জেনেছে, আর কিছু বাংলা শব্দ শিখেছে। অন্যদিকে আল আমিন হচ্ছেন এই ক্যাফে এবং গেস্ট হাউজের মালিক, নুবিয়ান। তার সাথেও অনেকক্ষণ কথা হল। মিশরীয় সমাজ, টিপস প্রথা নিয়ে। রাজনীতি নিয়ে আলাপের চেষ্টা করলাম। এড়িয়ে গেল।