নেফারতারি-মহল !!

সাড়ে তিন ঘন্টা একদম মরুভূমির ভিতর দিয়ে যাত্রা করে যখন স্নিগ্ধ বাতাসের পরশ পাবেন, কেমন লাগবে আপনার? শুধু তাই নয়, লেক নাসেরের বিশাল জলরাশির সামনে আপনি যখন দেখবেন প্রেমের সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ, তখন আপনার হৃদয় কাকে পেতে চাইবে?
 
আবু সিম্বেল মন্দির। রামেসিস দ্য গ্রেট তার প্রিয়তমা পত্নী নেফারতারির উদ্দেশ্যে এই মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। নিন্দুকেরা বলবে অন্য কথা। তারা বলবে এখানে দুটো মন্দির আছে - ছোট মন্দিরটাই শুধু নেফারতারির জন্য, আর বড়টা? পার্শ্ববর্তী দেশ সুদানকে ভয় দেখানোর জন্য - "খবরদার, এদিকে পা বাড়িয়ো না! এদিকে আমি আছি!"
 
আপনি কোনটি সত্য ভাববেন? আরো যদি জানতে পারেন, ইতিহাসে এই মন্দির নির্মাণের পর থেকেই নেফারতারির আর কোনো খোঁজই পাওয়া যায়নি?
 
এই মন্দিরটি ছিল আরো নীচে। আসোয়ান ড্যামের কারণে লেক নাসেরের বিশাল জলরাশির মধ্যে যাতে রামেসিস আর নেফারতারির ভালোবাসা হারিয়ে না যায়, তাই UNESCO এর সহায়তায় একটি মাল্টিকান্ট্রি টীম ১৯৬৮ সালে এটিকে পিচ পিচ করে উপরে তুলে বর্তমান জায়গায় স্থাপন করেছে।
 
পুরো ধারাবর্ণনাসহ দারুণ একটি ভিডিয়ো আসতাছে আবু সিম্বেল নিয়ে। আমি হোটেলে পৌছালেই ভিডিয়োটি এডিট করে আপলোড করব। কিন্তু এখন যাচ্ছি কোথায়? যে ড্যামের ভয়ে এই মন্দির সরিয়ে ফেললো, সেই আসোয়ান হাই ড্যাম দেখতে।
 
ছবি তুলেছেন: নাম না জিজ্ঞাসা করা এক চাইনিজ ফটোগ্রাফার। তিনি কৌশলে পেছনের মানুষদের আমার শরীর দিয়ে হাওয়া করে দিয়েছেন।
 
 

Related Articles

এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে

এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!