মিশরের চতুর্থ দিন - আসোয়ানে

মিশরের চতুর্থ দিন - আসোয়ানে
***************************
ওবেলিস্ক একটি প্রাচীন মিশরীয় স্থাপত্যের বিস্ময়কর নিদর্শন, যা একটি লম্বা, চার-পাশ সমান স্তম্ভ এবং উপরে পিরামিড আকৃতির শীর্ষ নিয়ে গঠিত। এটি সাধারণত একক পাথর থেকে তৈরি করা হতো, বিশেষ করে আসোয়ানের লাল গ্রানাইট ব্যবহার করে।
 
ওবেলিস্ক মিশরীয়দের কাছে সূর্যের দেবতা রা-কে সম্মান জানানো এবং পৃথিবী ও স্বর্গের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করার প্রতীক ছিল। এগুলো মন্দিরের প্রবেশপথে স্থাপন করা হতো এবং সূর্যের আলো ধরে রাখার মাধ্যমে দেবতাদের শক্তি পৃথিবীতে আনার বিশ্বাস ছিল। এছাড়াও, ওবেলিস্ক ফারাওদের ক্ষমতা, বিজয় এবং দেবতাদের সাথে তাদের সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
 
ওবেলিস্ক তৈরির প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত জটিল এবং শ্রমসাধ্য। প্রথমে আসওয়ানের খনিতে একটি বিশাল পাথর চিহ্নিত করা হতো। ডলোরাইট নামক শক্ত পাথরের বল (ভিডিয়োতে ব্যসাল্টের যে বল দেখানো হইছে) ব্যবহার করে পাথরের চারপাশে খাঁজ কাটা হতো। এরপর কাঠের খুঁটি ঢুকিয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখা হতো, যা ফুলে উঠে পাথরকে ভেঙে আলাদা করত। পাথরটি আলাদা করার পর সেটিকে কাঠের স্লেজ বা রোলারের সাহায্যে নীল নদ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হতো এবং সেখান থেকে গন্তব্যস্থলে স্থানান্তর করা হতো। অবশেষে, একটি ঢালু র্যাম্প ব্যবহার করে ওবেলিস্কটি উল্লম্বভাবে স্থাপন করা হতো।
 
ওবেলিস্ক শুধুমাত্র ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করত না; এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। সূর্যের গতিপথ অনুসরণ করে এটি দিন ও রাতের চক্রকে প্রতিফলিত করত এবং সময় নির্ধারণে সাহায্য করত। আজও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাচীন মিশরের ওবেলিস্কগুলি তাদের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করছে।
 
আনফিনিশড অসমাপ্ত ওবেলিস্ক, যা আজকে দেখতে এসেছি, আসোয়ানের গ্রানাইট খনিতে অবস্থিত। এটি ফারাও হাটশেপসুটের শাসনামলে (খ্রিস্টপূর্ব ১৫ শতক) নির্মাণের জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছিল এবং সম্পূর্ণ হলে এটি প্রায় ৪২ মিটার লম্বা ও ১,২০০ টন ওজনের হতো—যা ইতিহাসের বৃহত্তম ওবেলিস্ক হিসেবে পরিচিত হতে পারত। তবে, পাথরে ফাটল দেখা দেওয়ার কারণে নির্মাণ কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি এখনও বেডরকের সাথে সংযুক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
 
এই অসমাপ্ত ওবেলিস্ক প্রাচীন মিশরীয়দের পাথর খোদাই করার দক্ষতা এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে; এর উপর এখনও ডলোরাইট পাথরের চিহ্ন এবং খোদাইয়ের লালচে রেখাগুলো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
আসোয়ান শহরেই এটি। আলাদাভাবে টিকেট কাটতে হয়। আমাদের মতো বিদেশিদের জন্য ২২০ ইজিপি। ভালো কথা, পুলিশ ভদ্রলোককে আমি টিপসও দিয়েছি ২০০ ইজিপি।
 

Related Articles

এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে

এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!