আমি এখন সিয়াতে

আমি এখন সিয়াতে। এই সেই সিয়া মরুদ্যান, যেখানে আলেক্সান্দার দ্য গ্রেট সিয়া ওরাকলের স্বীকৃতি আদায় করেছিলেন যে, তিনি দেবতার পুত্র। এর পরপরই আলেক্সান্দার নিজেকে প্রাচীন মিশরীয় ফারাওদের মতো করে মিশরের ফারাও হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন।
 
গতকাল দুপুর ২:২০ এ মিনিভ্যান ছিল শার্ম আল সেইখ থেকে কায়রোর উদ্দেশ্যে। দেরী করে সেটা ছাড়লো ২:৫০ এ। পথিমধ্যে আরো দু'বার থামলো। আতঙ্কিত হয়ে এক যাত্রীর মাধ্যমে ইংরেজি না জানা ড্রাইভারকে জানালাম রাত দশটায় কায়রো থেকে আমার মিনিভ্যান সিয়ার উদ্দেশ্যে। ড্রাইভার আশ্বস্ত করলো তার আগে পৌঁছায় দিবে। কিন্তু...
কায়রো থেকে ১৪৫ কিলোমিটার দূরে একটা জায়গা আছে, যেখানে ড্রাগ চোরাচালান ঠেকানোর জন্য রীতিমত ডগ স্কোয়াড দিয়ে চেক করা হয়। সব যাত্রীকে, সব গাড়িকে - ইনডিভিজুয়ালি। দেড় ঘন্টা সেখানে লাগলো। যখন আবার যাত্রা শুরু করলাম - বাজে ৮:১৫, দূরত্ব ১৪৫ কিলোমিটার।আমার হাতে ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট! আমি আশা ছেড়ে দিলাম।
 
কিন্তু ড্রাইভার আশা ছাড়েনি। আমি যখন কায়রোর তাহরির স্কয়ারে, তখন বাজে ৯:৫০। সেখান থেকে ৪০০ মিটার দূরত্ব সিয়া বাস স্টেশন। আমি রাস্তা চিনতে পারছি না। কেউ ইংরেজি জানে না। এক ট্যাক্সি ড্রাইভার বললো, ১০০ পাউন্ড দিলে সে পৌঁছে দিবে। সময় নেই হাতে, রাজি হলাম আমি।
 
১ মিনিট বিশ্রামও না নিয়ে সিয়ার মিনিভ্যানে উঠলাম। এসে পৌঁছালাম সকাল ৭টায়। আমি গতকাল ৩টা থেকে আজ সকাল ৭টা, টানা ১৬ ঘন্টা মিনিভ্যানে!
 
এরপর যখন আমার বন্ধুবৎসল ট্যুর গাইড রাতে থাকার জন্য এখানে নিয়ে আসলো আমাকে, আমার মনে হলো এই মিশর ট্যুরের সবচেয়ে বেস্ট জায়গায় এসেছি। আলেক্সান্দার যেখানে দেবতার পুত্র হয়েছেন, সেখানে এই অভ্যর্থনা তো হতেই হবে!
 
এখন এখানেই রাজকীয় নাস্তা করছি। তারপর বের হব মরুভূমির উদ্দেশ্যে।
 
ভালো কথা, এটার নাম পান্টা লজ।

Related Articles

এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে

এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!