রাত ধীরে ধীরে নিজের শরীর খুলে দিচ্ছিল। আলো–ছায়ার ফাঁক দিয়ে শহরটাকে সে যেন নিঃশব্দে গিলে নিচ্ছিল। রাস্তায় গাড়ির শব্দ কমে এসেছে অনেকক্ষণ, মানুষের কোলাহল থমকে দাঁড়িয়েছে, আর বহুতলের জানালায় একে একে নিভে গেছে ক্লান্ত আলো। সেই ক্ষণেই প্রথম টের পেলাম—রাতের নিজের একটা গন্ধ আছে।
এই গন্ধ মাদকতার, যেন ছায়ার ভেতর নরম হাতে টেনে নেওয়া হয়। এই গন্ধ মোহনীয়তার, যেন সমস্ত শহরই নীরব জাদুমন্ত্রে আবৃত। এই গন্ধ একাকীত্বের, যেন শূন্য ঘরে কেউ নিঃশ্বাস ফেলে যায়। এই গন্ধ নির্জনতায় ভেজা, যেন দূরের কোনো অচিন নদী নিশব্দে বয়ে চলেছে। এই গন্ধ শুনশান নীরবতার, কানে কানে বলে—এ পৃথিবীতে আসলে তুমি একাই। আর সবচেয়ে বেশি—প্রিয় মানুষটাকে কাছে পাওয়ার জন্য একটা গভীর আকুলতার।

এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!