--------------------------------
এখন তো বছরের প্রতিটা মাসেই কোনো না কোনো “ডে”—মাদার্স ডে, ফাদার্স ডে, এই ডে, সেই ডে।আমার বাবা-মা যখন জীবিত ছিলেন, তখন এসব দিনের কথা জানতামই না।
হয়তো তখন ছিলও না। অথবা ছিল, কিন্তু আমাদের জীবনে ছিল না। সত্যি বলি, ভালোই ছিলাম আমরা—দিনের ছুতোতে ভালোবাসা দেখাতে হতো না, কারণ তখন ভালোবাসা ছিল নীরব, গভীর, নির্জন নদীর মতো।
আজকালকার ছেলেমেয়েরা দিব্যি বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে, ছবি তোলে, উপহার দেয়, বলে “লাভ ইউ মা”, “লাভ ইউ বাবা”—আমি পারতাম না। পারতাম না বলেই নয়, সাহস ছিল না।
এই ছবিটা তোলা হয়েছে রাজাদের উপত্যকায়, ফারাও তৃতীয় রামেসিসের সমাধিতে। রাজাদের উপত্যকায় আমি সর্বমোট চারটা সমাধি দেখেছি। তন্মধ্যে তিনটা ছিল ফ্রি, আর তুতানখামুনেরটা দেখতে অতিরিক্ত ৭০০ পাউন্ডের টিকেট কাটতে হয়েছিল।
রাজাদের উপত্যকায় সবচেয়ে বেশি দামের টিকেট ছিল প্রথম সেটির সমাধি। প্রায় ২০০০ পাউন্ডের কাছাকাছি। সম্ভবত এতো খরচ দেখেই আমি আর টিকেট কিনিনি। কিন্তু জানতাম সবচেয়ে দারুণ সমাধিটাই মিস করতে যাচ্ছি। আরেকটি কারণ ছিল না দেখার। গ্রুপে গেলে গ্রুপের অন্যদের ব্যাপারটাও লক্ষ্য করতে হয়। আমি এমনিতেই তুতানখামুনে ঢুকেছিলাম। আমার গ্রুপের কেউই বাড়তি টিকেট কাটেনি। আর আমিও তাই সেটি প্রথমেরটা কাটিনি।
আমার খুব প্রেম করতে ইচ্ছে করে—
সেই উন্মাদ প্রথম যৌবনের মতো, যখন হৃদয়ের প্রতিটি ধাক্কায় একেকটি প্রেমফুল ফুটত।
ইচ্ছে করে তোমার হাত ধরতে—
নিঃশব্দে, ভীরু ছোঁয়ায় যেন সমস্ত পৃথিবী থমকে দাঁড়ায়।
যদি একদিন আমি মেঘের আঁচলে মিশে যাই, যদি এই পৃথিবীর সমস্ত আলো-হাওয়া থেকে মুছে যাই—
তোমার চোখে কি তখন একটুখানি অন্ধকার ঘনিয়ে আসবে?
কোনো এক তপ্ত দুপুরে, যখন রোদ চিড়ে ফেলবে মাটির চামড়া,
কিংবা সন্ধ্যার লাল আভায় যখন আকাশ কাঁদে নিঃশব্দে—
তোমার পাতলা হৃদয়ের কোণে কি আমার নামটা আঁচড় কাটবে?
জানি, উত্তর দিবে না।
মিশর ট্যুর প্রায় শেষ হবার পথে। ১৭ দিনের বিশাল এক ট্যুরে এসেছিলাম। একে একে গিজা, আসোয়ান, আবু সিম্বেল, লুক্সোর, শার্ম আল সেইখ, দাহাব, সিনাই পর্বত, সিওয়া মরুদ্যান দেখে এখন আলেকজান্দ্রিয়ায়। আগামীকাল কায়রোতে যাব আবার, দুইরাত থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে।
জানালা দিয়ে যে মন্দিরটি দেখা যাচ্ছে, সেটা সিওয়া মরুদ্যানের আমুন রা- এর মন্দির। এটি প্রাচীনকাল থেকেই prediction করার ব্যাপারে খুব বিখ্যাত ছিল। এর একটা উদাহরণ ছিল ইউবোটাস।
প্রাচীন সাইরিনি শহরের বিখ্যাত অ্যাথলিট ইউবোটাস একদিন মরুভূমির পথ ধরে সিওয়া মরুদ্যানে পৌঁছালেন, যেখানে মহান আমুন রার ওরাকল মন্দির বিরাজ করছিল। সূর্যের তাপে দগ্ধ এবং দীর্ঘ যাত্রায় ক্লান্ত হয়ে, তিনি মন্দিরে প্রবেশ করলেন। পবিত্র পুরোহিতরা তাকে স্বাগত জানালেন। ইউবোটাসের হৃদয় ধড়ফড় করতে থাকে, কারণ তিনি জানতেন আমুন রার বাণী তার ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।
Subcategories
এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে
এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!