হ্যালো, আমি সাইয়েদার বড় ভাই। একটু আগে নাবিলাকে নিয়ে লিখেছিলাম, আর এখন লিখছি সাইয়েদাকে নিয়ে! আরেহ! সাইয়েদাই হচ্ছে নিশাত, কিংবা নিশাতই হচ্ছে সাইয়েদা!
সাইয়েদা এখন একজন থেরাপি ইন্টার্ন। সে দক্ষিণ এশিয়ান কানাডিয়ানদের জন্য ভার্চুয়াল কাউন্সেলিং করে। আমি নিজে দেখেছি কীভাবে আমাদের সংস্কৃতি, পারিবারিক চাপ, বা আর্থিক টানাপোড়েন মন ভেঙে দিতে পারে। সাইয়েদা সেসব গভীর থেকে বোঝে– কারণ সে শুধু পড়েইনি, আমাদের পরিবারের সংগ্রামও তার চোখের সামনেই হয়েছে।
আজ ২২ জুন। নিশাতের জন্মদিন।
আজকের এই দিনে, পৃথিবী তার আলো ছড়িয়ে দিয়েছিল আমাদের সংসারে—অথচ সে আলোটা ঠিক সূর্যের মতো ছিল না। এটা ছিল একটু নরম, একটু নিঃশব্দ, একটু রূপালি আলো—যেটা কেবল তারা (star) দেয়। নিশাত, আমার ছোট বোন নয় শুধু, বরং জীবনের সেই পাতাটা, যেটা খুললে আমি ফিরে পাই ছেলেবেলার ঘ্রাণ, মা’র কণ্ঠস্বর, আর একটা সময়, যেখানে ঘড়ির কাঁটা কেবল খেলার জন্যই চলতো।
আমরা বয়সে কাছাকাছি, অথচ মাঝেমাঝে মনে হয়, সে যেন আমার আগের জন্মের ছায়া—যে আমাকে বুঝে ফেলে, এমনকি আমি চুপ করে থাকলেও। জীবনের অনেক কঠিন সময়েও, ওর একটুখানি হাসি যেন বাতাসে রেখে যাওয়া কাগজের নৌকার মতো—ডুবে যেতে যেতে আবার ভেসে ওঠে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার তুলে দেওয়া দরকার—এই কথাটা আমি আবেগে বলছি না। মাঝরাতে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটে চলেছে, সেটাই একমাত্র কারণ নয়। এসব ঘটনা আমরা অনেক আগেই দেখেছি, বরং আমি তো জন্ম থেকেই দেখে আসছি।
আমি যে কতদিন ঈদ করি না—ঠিক করে মনে পড়ে না। হৃদয়ের ভেতর কোথা থেকে যেন উৎসাহের সে দীপ্ত শিখাটাও নিভে গিয়েছিল বহু আগেই। ঘড়ির কাঁটায় ঈদের দিন আসে, যায়; কিন্তু তাতে আর আমার ভেতরের আকাশে নতুন চাঁদ ওঠে না। মনে হয়, ধীরে ধীরে চারপাশের মানুষগুলোও সেই চাঁদের আলো থেকে সরে যাচ্ছে, ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ছে। যাদের একদিন ভাবতাম হৃদয়ের খুব কাছের, তাদের সঙ্গে এখন শব্দের দূরত্ব, স্পর্শের শূন্যতা। আর যাদের সঙ্গে নতুন করে বন্ধনের আশ্বাস খুঁজতে চাই, তারাও যেন কোনও অদৃশ্য বেড়ার ওপারে থাকে, ঠিক নাগালের বাইরে।
প্রথম পিরামিড দেখার অনুভূতি
---------------------------------
[অনেকদিন ধরেই Wahida Misha আমার কাছে জানতে চাচ্ছিলো বিশাল পিরামিড দেখে আমার অনুভূতি কী ছিল! পিরামিড তো অনেকেই দেখেছে। আমার অনুভূতি আলাদাভাবে জেনে কী হবে - এই কথা বলে প্রায় এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ওর কথা ছিল, আমি যেভাবে পিরামিড নিয়ে লিখেছি, যেভাবে ভেবেছি, সামনা সামনি দেখে সেইভাবেই কী অনুভব করেছিলাম? আমি নিরুত্তর ছিলাম। আজ Washi Tarafder এর জ্ঞানকোষের জন্য মিশরের ভ্রমণকাহিনির বইটি লেখার সময় একটা জায়গায় এসে এই অনুভূতির ব্যাপারটা আমি নিজেই লিখছিলাম। পরে মনে হলো, ফেসবুকে দেই - আর মিশাও শান্ত হোক। এই প্রশ্ন করে আর বিরক্ত করবে না।]
নীল নদ তখন সন্ধ্যার রঙে রাঙানো—আকাশের গাঢ় নীলাভ ছায়ায় নদীর জল যেন আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে। সূর্যটা পশ্চিমে হেলে পড়ছে ধীরে ধীরে, আর আমাদের জাহাজ মৃদু ঢেউ কেটে এগিয়ে চলেছে। হঠাৎ ঘোষণা এল—"কম ওমবো!" জাহাজের ম্যানেজার এসে বললেন, “সময় আছে মাত্র এক ঘণ্টা। দ্রুত ঘুরে আসুন।”
আমি আর দেরি করিনি। ব্যাগে শুধু ফোন আর পানির বোতল রেখে জাহাজ থেকে নামলাম। আজ আমি গাইড নিইনি। ইচ্ছা করেই। চেয়েছিলাম নিজের মতো করে হারিয়ে যেতে, অনুভব করতে মন্দিরের প্রতিটি খোদাই, প্রতিটি স্তম্ভ, প্রতিটি দ্যোতনার আবহ।
Subcategories
এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে
এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!