ক্লিওপেট্রার স্নানাগার বা স্প্রিং
এই স্নানাগারটি ক্লিওপেট্রার স্নানাগার নামে পরিচিত। এটি আসলে একটি গরম পানির প্রাকৃতিক আধার। এটি দুটি কারণে বিখ্যাত -
আমি এখন সিয়াতে। এই সেই সিয়া মরুদ্যান, যেখানে আলেক্সান্দার দ্য গ্রেট সিয়া ওরাকলের স্বীকৃতি আদায় করেছিলেন যে, তিনি দেবতার পুত্র। এর পরপরই আলেক্সান্দার নিজেকে প্রাচীন মিশরীয় ফারাওদের মতো করে মিশরের ফারাও হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গতকাল দুপুর ২:২০ এ মিনিভ্যান ছিল শার্ম আল সেইখ থেকে কায়রোর উদ্দেশ্যে। দেরী করে সেটা ছাড়লো ২:৫০ এ। পথিমধ্যে আরো দু'বার থামলো। আতঙ্কিত হয়ে এক যাত্রীর মাধ্যমে ইংরেজি না জানা ড্রাইভারকে জানালাম রাত দশটায় কায়রো থেকে আমার মিনিভ্যান সিয়ার উদ্দেশ্যে। ড্রাইভার আশ্বস্ত করলো তার আগে পৌঁছায় দিবে। কিন্তু...
শার্ম আল শেইখে এসেছিলাম এখান থেকে সিনাই পর্বতে যাব বলে। অরিজিনাল প্ল্যান একটু চেইঞ্জ হয়েছে। আমার প্ল্যান ছিল শার্মে এসে বিকাল ৭টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টার মিনিভ্যান যাত্রার ধকল কাটাবো, তারপর ট্যুর এজেন্সির সাথে বিকাল ৭টার দিকে সিনাইয়ের দিকে যাত্রা করব। সেখানে সেইন্ট ক্যাথেরিন শহর থেকে রাত দুইটার সময় পাহাড়ে ক্লাইম্বিং শুরু হবে। মোসেস মাউন্টেনে উঠে অসাধারণ সূর্যোদয় দেখব।
কিন্তু রাতেই প্ল্যান চেইঞ্জ হল। ট্যুর এজেন্সি থেকে বলা হল সিনাইয়ের ট্যুর শুধুমাত্র শুক্রবার, রবিবার আর বুধবার হয়; কারণ শনিবার, সোমবার আর বৃহস্পতিবার সেইন্ট ক্যাথেরিন মনাস্টেরি খোলা থাকে। তাই শনিবারের বুকড করা আমার ট্যুর হবে না। আমাকে ট্যুর করতে হলে শুক্রবার অথবা রবিবার করতে হবে। দুটোই আমার জন্য অসম্ভব ছিল। শুক্রবার লুক্সোর থেকে যাত্রা করব, ইনফ্যাক্ট আমি তখন মিনিভ্যানে; আর রবিবার সিয়া ওয়াসিসের দিকে যাব।
সাড়ে তিন ঘন্টা একদম মরুভূমির ভিতর দিয়ে যাত্রা করে যখন স্নিগ্ধ বাতাসের পরশ পাবেন, কেমন লাগবে আপনার? শুধু তাই নয়, লেক নাসেরের বিশাল জলরাশির সামনে আপনি যখন দেখবেন প্রেমের সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ, তখন আপনার হৃদয় কাকে পেতে চাইবে?
আবু সিম্বেল মন্দির। রামেসিস দ্য গ্রেট তার প্রিয়তমা পত্নী নেফারতারির উদ্দেশ্যে এই মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। নিন্দুকেরা বলবে অন্য কথা। তারা বলবে এখানে দুটো মন্দির আছে - ছোট মন্দিরটাই শুধু নেফারতারির জন্য, আর বড়টা? পার্শ্ববর্তী দেশ সুদানকে ভয় দেখানোর জন্য - "খবরদার, এদিকে পা বাড়িয়ো না! এদিকে আমি আছি!"
আমি যখন থেকে মিশরে আসার প্ল্যান করেছি, একটা ইচ্ছে ছিল নুবিয়ানদের সাথে এক বেলা সময় কাটাবো। এমনকি ঈদের দিন ওদের সাথে আমার সময় কাটানোর কথাও আছে।
অবশ্য আজ এলিফ্যান্টাইন দ্বীপে গিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে এক নুবিয়ান ক্যাফেতে কফি খেলাম। নুবিয়ানদের সাথে মিশরীয়দের চেয়ে সুদানিজদের বেশি মিল। এদেরকে বলা হয় কালো, দেখতেও কালো! কিন্তু মন?
অনেক সাদা, অন্ততপক্ষে মিশরীয়দের চেয়ে তো বটেই। একসময় নুবিয়ানদের নিজেদের রাজ্য ছিল, রাজা ছিল। মিশরীয়রা তাদেরকে পরাজিত করে দাস হিসাবে ব্যবহার করত। অথচ নুবিয়ানরাই পরবর্তীতে একসময় পুরো মিশর দখল করেছিল। যারা ছিল একসময়ের দাস, তারাই হয়ে উঠেছিল শাসক।
মিশরের চতুর্থ দিন - আসোয়ানে
***************************
ওবেলিস্ক একটি প্রাচীন মিশরীয় স্থাপত্যের বিস্ময়কর নিদর্শন, যা একটি লম্বা, চার-পাশ সমান স্তম্ভ এবং উপরে পিরামিড আকৃতির শীর্ষ নিয়ে গঠিত। এটি সাধারণত একক পাথর থেকে তৈরি করা হতো, বিশেষ করে আসোয়ানের লাল গ্রানাইট ব্যবহার করে।
ওবেলিস্ক মিশরীয়দের কাছে সূর্যের দেবতা রা-কে সম্মান জানানো এবং পৃথিবী ও স্বর্গের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করার প্রতীক ছিল। এগুলো মন্দিরের প্রবেশপথে স্থাপন করা হতো এবং সূর্যের আলো ধরে রাখার মাধ্যমে দেবতাদের শক্তি পৃথিবীতে আনার বিশ্বাস ছিল। এছাড়াও, ওবেলিস্ক ফারাওদের ক্ষমতা, বিজয় এবং দেবতাদের সাথে তাদের সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
Subcategories
এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে
এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!