খুফুর পরেই তার সন্তান খেফ্রেন রাজা হননি। তাদের মাঝে জেদেফ্রে ছিলেন। তিনি যে কোনো কারণেই হোক, গিজা থেকে কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত আবু রোশ নামে একটি জায়গায় চলে যান। তিনি ভুমিতে একটি গভীর খাদ নির্মাণ করে একটি অদ্ভুত ধরনের পিরামিড নির্মাণ শুরু করেছিলেন, যদিও কখনই তা শেষ করেননি।
খ্রেফেন রাজা হয়ে গিজায় ফিরে আসেন এবং পূর্ব পুরুষদের পিরামিড সংস্কৃতি পুনরায় চালু করেন। তিনি গ্রেট পিরামিডের মত প্রায় একই আকারের একটি পিরামিড নির্মাণ করেন, যা মাত্র ২০ ফুট ছোট, সম্ভবত তাঁর পিতা খুফুর প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ তিনি ২০ ফুট ছোট রেখেছিলেন। কিন্তু তিনি খুফুর চেয়েও বিশেষ কিছু করেছিলেন।
একটা সত্য কথা বলি...
গ্রেট পিরামিডের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে আমি খুব বেশি এক্সাইটেড হইনি। কেন হইনি? আমার কাছে মনে হইছে, এই খুফু লোকটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পিরামিড বানাইলো, অথচ নিজের কোনো স্টাচু নেই! ৭.৫ সেমির ছোট একটা মূর্তি পাওয়া গেছে শুধু!
পিরামিড ভিনগ্রহের এলিয়েনদের তৈরী - এটা একটা দারুণ জনপ্রিয় মিথ। তাদের অনেকগুলো যুক্তির মধ্যে একটি হচ্ছে - এত বড় বড় পাথর কীভাবে গিজাতে নিয়ে আসা হয়েছে?
না, গ্রেট পিরামিড বা খুফুর পিরামিডের পাথর গিজাতে নিয়ে আসা লাগেনি। এই পিরামিডটি যে পাথর দিয়ে তৈরী, তা এই পিরামিডের পাশেই ছিল। ছবিতেই দেখা যাচ্ছে, পুরো গিজা মালভূমি এলাকা জুড়ে পাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
মিশরের মানুষ স্ক্যামার - এটা যেমন সত্য, তেমন মিথ্যে। মিশরের সাধারণ মানুষজন হয়তো সাধারন ভালো মানুষ, কিন্তু যারা প্রাচীন মিশর নিয়ে ব্যবসা করেন, তারা সবাই স্কামারস। কেউ বেশি। কেউ কম।
আজ সকালে যখন গিজা কমপ্লেক্সের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম, মূল গেট থেকে যখন আর মাত্র দুই মিনিটের রাস্তা, ভুলক্রমে একজনকে জিজ্ঞাসা করে ফেললাম- দুই মাথা রাস্তার কোনটাতে মূল গেট? সেইজন ১০ মিনিট ধরে দুই নাম্বার পথটা দিয়ে ঘুরিয়ে এক নাম্বার পথে নিয়ে আসলো, যা দিয়ে আসলে দুই মিনিটেই মূল গেটে আসতে পারতাম। যদিও তাকে প্রথম থেকেই বলেছিলাম আমার সাথে না আসার জন্য। শুধু তাই না, সে এরপর ডলার চেয়ে বসলো। সে না কি আমাকে বিশাল উপকার করেছে!
এই ছবিটা গ্রেট পিরামিডের কিংস চেম্বারে তোলা। ছবিটি আমার অনুরোধে তুলে দিয়েছিলেন এক ফ্রেঞ্চ ভদ্রলোক। ছবি তোলা শেষ হলে তার সঙ্গীনি হাসতে হাসতে বললেন, "এবার টিপস দাও"।
মিশরে এই টিপস প্রথা মিশরের অনেক দিনের ঐতিহ্য বা সংস্কৃতি হলেও এটা এখন ট্যুরিস্টদের কাছে আতঙ্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। এই প্রথা চালু হয়েছিল মিশরের নিম্নবিত্তদের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য। বিশেষ করে যারা হোটেলে কাজ করে, ট্যাক্সি চালায়, ট্যুরে হেল্প করে, গাইড - এদের জন্য। যারা আসলে কম টাকা পায় চাকরী করে। এবং টিপস নিয়ে না কি বার্গেইনিং করলে এরা অভদ্র ভাবে। টিপসের পরিমাণ সাধারণত বলা হয়ে থাকে ২০ ইজিপির মতো। কিন্তু এখন এরা কমপক্ষে ২০০ ইজিপি ছাড়া মুখ ভার করে, অনেক সময় তো ডলার চেয়ে বসে!
ব্যথা যখন গাঢ় নীল রাত্রির মতো চেপে বসে, মানুষ শিকড়হীন গাছের মতো দাঁড়িয়ে থাকে—মাটি নেই, পাতা ঝরে, কিন্তু পতনের শব্দটুকুও পৃথিবী শুনতে পায় না। তার হৃদয়ে তখন অদৃশ্য ভূমিকম্প; চোখের সামনে ভাঙাচুরা হয়ে যায় সমস্ত আলোর শহর, অথচ ঠোঁট দুটো জমে যায় বরফের ভাষায়। সে হাত বাড়ায় সাহায্যের দিকে, কিন্তু হাতের আঙুলেই লেখা থাকে অদৃশ্য এক কবিতা: "আমি একা।"
Subcategories
এস এম নিয়াজ মাওলা সম্পর্কে
এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!