গারিয়ান টিচিং হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর ডাঃ নুরুদ্দিন একজন বয়স্ক এবং মোটাসোটা মানুষ। প্রথম দেখাতেই তাঁকে আমার ভালো লেগে যায়। অনেকখানি বন্ধুবৎসল মনে হয়। এই বিদেশ – বিভুয়ে এসে, যেখানে কোনো বাংলাদেশী ডাক্তার আর সিস্টার নেই, একজন বন্ধুবৎসল মানুষ পাওয়াটাই তখন খুব ভাগ্যের ব্যাপার। ডাঃ নুরুদ্দিন চমৎকার ইংরেজী বলতে পারেন। তিনি নিজেই নিজের পরিচয় দিলেন, ‘শিশু বিশেষজ্ঞ’, ডেপুটি ডিরেক্টর বলেননি।
ত্রিপোলী এয়ারপোর্টে এক বাংলাদেশি ডাক্তারের সাথে পরিচয় হলো। উনি ত্রিপোলিতেই থাকেন। খবর পেয়েছিলেন এক দল দেশী ডাক্তার এবং সিস্টার আসবে, তাই সময় করে এয়ারপোর্টে এসেছেন। শুনে খুব ভালো লাগলো। উনার কাছ থেকেই জানলাম গারিয়ান শহর সম্পর্কে। আবহাওয়াগতভাবে লিবিয়ার সবচেয়ে আরামপ্রদ অঞ্চল। পাহাড়ের উপরে শহরটি। যে হাসপাতালে আমাকে দেওয়া হয়েছে সেখানে দুই বছর আগে উনি ছিলেন, পরিবেশটাও না কি ভালো। আমি খুব কৌতুহলী হলাম, কিন্তু চিন্তায় পড়ে গেলাম লিসাকে নিয়ে।
বিমানে ভ্রমন যতোই আরামদায়ক হয়, সেটা যদি হয় এগার ঘন্টার ভ্রমন, কোনোরকম যাত্রা বিরতি ছাড়াই, তাও আবার ইকোনমি ক্লাসে, কোনোভাবেই স্বাচ্ছন্দপূর্ণ হবার কথা নয়। এর উপরে আবার যদি সুন্দরী লিবিয়ান বিমানবালারা ইংরেজী কম জানে, তাহলে তো আরো সমস্যা। তাও সুন্দরী বিমানবালাদের ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজীতে বলে কিছু সাহায্য পাওয়া যায়, কিন্তু যখন সুন্দর বিমানবালাদের কাছে এক বোতল পানির কথা বললে শুনতে হয়, আপনাদের জন্য এক বোতলই বরাদ্দ এবং সেটা দেওয়া হয়ে গেছে, তখন মনে হয়েছিলো, ‘হা হুতোম্মি! এ যাচ্ছি কোথায়?’
এস এম নিয়াজ মাওলা। পেশায় একজন চিকিৎসক আর নেশায় একজন নবীন কথা সাহিত্যিক। পেশাগত জীবনটাকে মানুষ সিরিয়াসলি নেয়। এই পেশাগত জীবনের টানেই ছোটবেলা থেকে এত পড়াশুনা করে, এত এত ডিগ্রী নিয়ে একটা পর্যায়ে এসে মানুষ থিতু হয়। ক্যারিয়ার চলতে থাকে আপন গতিতে। সময়টাও চলতে থাকে নিজের মতো করে। ব্যাপারটায় কেমন একটা বাধ্যবাধকতার গন্ধ পাওয়া যায়। তাই না? পেশাগত জীবনটাকে চাবি দিয়ে ঠিকঠাক না রাখলে পুরো জীবনটাই তছনছ হবার পথে চলে যায়। অথচ এই জীবনটাকে ঠিক রাখতে মনের খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়! নিয়াজ ভাইয়ের এই মনের খোরাক হচ্ছে লেখালেখি!